যশোর
Trending

১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন গ্রহণ করা হয়নি ,জায়গার সংকটের কারণে

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জন্য দুইটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে ও ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন বরাদ্দ দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। কিন্তু হাসপাতালে বসানোর জায়গা না থাকায় তা গ্রহণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দীলিপ কুমার রায়।


হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র মতে, গতবছর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল মেশিনারিজ বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ওই বছরে হাসপাতালে একটি ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনো এবং সিটিস্ক্যান মেশিন বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। এরপরে গত ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় দুইটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে ও ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন বরাদ্দ দেয়ার তথ্য জানিয়ে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ২৯ ডিসেম্বর সদ্য বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক একটি আধুনিক পাঁচশ এমএম ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন গ্রহণ করেন। যা হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে বসানোর অপেক্ষায় রয়েছে। স্থান সংকট দেখিয়ে বাকি একটি এক্স-রে মেশিন এবং ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে হাসপাতাল থেকে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।


জানা যায়, যশোরে কিডনিসহ বিভিন্ন রোগের রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ রোগীরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু কিডনি রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা পেলেও কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে বাইরের ক্লিনিক থেকে বেশি টাকা খরচ করে কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে বাধ্য হচ্ছে রোগীরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সমাজের কথায় প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় হাসপাতালের জন্য ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন বরাদ্দ দেয়। কিন্তু মেশিনগুলো বসানোর স্থান সংকট দেখিয়ে আপাতত গ্রহণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।


এদিকে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেন, একটি মহলের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনগুলো ফেরত দিয়েছেন। তাদের মতে, মেশিনগুলো হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করলে পারতেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা না করে মেশিনগুলো গ্রহণ করছে না। ফলে কিডনি রোগীরা ডায়ালাইসিস করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


এ ব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ দায়িত্বে থাকার সময় মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতালের নামে মেশিনগুলো বরাদ্দ হয়। আর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, ডিসেম্বর মাসে মেশিনগুলো হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলেও মেশিনগুলো বসানোর জায়গা না থাকায় গ্রহণ করা যায়নি। তবে ভবন নির্মাণ শেষে সেগুলো পেতে পুনরায় আবেদন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
বাংলাEnglish