Public Posttopখুলনাযশোরসংগঠনসমগ্র বাংলাদেশ

৬৫ পরিবারের মাঝে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ত্রান বিতরণ।

বনিফেস ডেস্ক:গত ৬ জুন আম্পান’ ঘূর্ণিঝড়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা গ্রামের মেহেরুন নেছার সংসার ভেঙ্গে গেছে। ঝড়ের রাতে বসতবাড়ির উপরে গাছের ডাল পড়ে তাঁর স্বামী ও এক ছেলে মারা যান। স্বামী-সন্তান হারিয়ে মেহেরুন এখন খুব কষ্টে আছেন। ফসলে মাঠে দিনমজুরির কাজ করে এখন চার ছেলে-মেয়ের সংসার চালাতে হয় তাকে। প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপরে এই সংগ্রামী নারীর হাতে চাল-ডাল-আলুর ত্রাণ সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। এই সহায়তা পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি।
মেহেরুনের মত ৬৫ জন অসহায় মানুষের হাতে প্রথম আলোর ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে ৪৩ পরিবার ও রোহিতা ইউনিয়নের কোদলাপাড়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠে ২২ পরিবারের সদস্যদের হাতে এই ত্রাণের পণ্য তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণের প্যাকেট হাতে পেয়ে মেহেরুন নেছা বলেন, ‘মাঠে কোনো কৃষি জমি-জায়গা নেই। বসতবাড়ির জায়গাটুকুই সম্বল। ঝড়ে স্বামী আর ছেলেকে হারিয়েছি। তারাই ছিলো সংসারের কর্মক্ষম মানুষ। কিন্তু তাদেরকে হারিয়ে এখন আমি দিশেহারা। চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটছে। আপনাদের চাল-ডালে অন্তত তিনদিন খেয়ে বাচতে পারবো।’
ওই গ্রামের আরেকজন অসহায় নারী দিপালী দাস। ঝড়ের রাতে তিনিও একসাথে বাবা-মাকে হারান। ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙ্গে বাড়ির উপরে পড়ে মা-বাবা দুইজনই মারা যান। এখন তাদের পরিবারে দুঃখের যেন শেষ নেই। তার হাতেও ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেওয়া হলো।
ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, যশোর বন্ধুসভার সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ত্রাণ বিতরণের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ’প্রথম আলো শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না; যে কোন দুর্যোগে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। ‘করোনা’ আর ‘আম্পান’ ঝড়ের এই দুর্যোগে প্রথম আলো ছাড়া অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমকে ত্রাণ কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে দেখিনি। এজন্যই প্রথম আলো সবার চেয়ে একটু আলাদা।’
অসহায় মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকেই এই চাল পাবেন। যারা এখনো পাননি তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ২২টি পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। কোদলাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সুপার মো. মোক্তার আলী।
সরসকাঠি গ্রামের রেবেকা খাতুন ঝড়ে স্বামীকে হারান। ছোট দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনিও মানবেতর দিনযাপন করছেন। তাঁর হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দিলে তিনি বেজায় খুশি হন।
রেবেকা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিলেন সংসারে একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। ঝড়ে তিনি মারা যাওয়ার পরে আমাদের আর দুঃখের সীমা নেই। গ্রামের মানুষের সহায়তায় এখন সংসার চলছে। আপনাদের দেওয়া চাল-ডাল-আলু দিয়ে অন্তত ৫দিন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবো।’

Related Articles

Back to top button
বাংলাEnglish