Uncategorized

ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের জাদুঘরে নেই স্মৃতিচিহ্ন

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৮ বছরেও পূর্ণতা পায়নি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বই থাকলেও জাদুঘরটিতে নেই শহীদ আবদুল জব্বারের ব্যবহারের কোনও জিনিসপত্র। ফলে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় দর্শনার্থীদের। চলাচলের রাস্তাটিরও বেহাল অবস্থা। বছরের একটা দিন ছাড়া অন্য সময় থাকে দর্শনার্থী শূন্য। প্রশাসন বলছে, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘরের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের স্মৃতি রক্ষায় ২০০৮ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাঁচুয়া গ্রামে নির্মাণ করা হয় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণতা পায়নি এই প্রতিষ্ঠানটি। 

জাদুঘরে ভাষা শহীদের ব্যবহার্য জিনিষপত্র, পত্রিকা না থাকায় দিন দিন কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। অলস পড়ে থাকে গ্রন্থাগারের টেবিল-চেয়ারগুলো। শুধু ভাষার মাসেই দূরদূরান্ত থেকে কিছু দর্শনার্থী এলেও অন্য সময় থাকে দর্শনার্থী শূন্য। চলাচলের সড়কটিও আছে বেহাল অবস্থায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান জানান, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের নামে স্মৃতি জাদুঘর হলেও এখানে তার কোনও স্মৃতিচিহ্ন রাখা হয়নি। দর্শনার্থীরা এসে স্মৃতিচিহ্ন দেখতে চায় কিন্তু দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

স্থানীয় শিক্ষার্থী শামসুন্নাহার জানান, বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার সম্পর্কে জানতে চায়। তার সম্পর্কে জানার জন্য লাইব্রেরিতে তেমন কোনও বই রাখা হয়নি। এ কারণে মানুষ কিছুই জানতে পারে না।

স্থানীয় শিক্ষার্থী শোভন জানায়, একুশে ফেব্রুয়ারি এলে এখানে সৌন্দর্য বর্ধনের কিছু কাজ করা হয়। আর সারা বছর এটা অবহেলিত থেকে যায়।

গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা কামাল জানান, মূল সড়ক থেকে ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের স্মৃতি জাদুঘর পর্যন্ত যেতে সড়ক খুবই খারাপ অবস্থা। ভাঙার কারণে মানুষের কষ্ট হয়। এই সড়কটির উন্নয়ন খুবই জরুরি। 

গ্রন্থাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান কায়সারুজ্জামান বলেন, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগারে বই রয়েছে ৪১৭৫টি। কিন্তু স্মৃতি জাদুঘরে শহীদ জব্বারের ছবি, ব্যবহৃত অন্য জিনিসপত্র না থাকায় হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় দর্শনার্থীদের। দর্শনার্থীরা আমাদের প্রশ্ন করে, কিন্তু আমরা এর কোন জবাব দিতে পারি না।

এদিকে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, জব্বার নগর নামকরণে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা, সড়কটি মেরামত সংস্কার করা, ভাষা শহীদের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোহাম্মদ কামরুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এটাকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কমপ্লেক্সে রূপ পেতে খুব শিগগিরই আমরা একটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। কমপ্লেক্স হিসেবে গৃহীত হলে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা এখানে থাকবে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button