জন্মদিনে এখন ‘কষ্ট’ পান সোহেল রানা

কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ। যদিও তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে নায়ক সোহেল রানা নামে। ১৯৪৭ সালের এই দিনে (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সে হিসেবে আজ ৮০তম জন্মদিনে পা ফেলেছেন তিনি ।
এবারের জন্মদিনের অনুভূতি জানতে চাইলে সোহেল রানা জানান মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
তিনি বলেন, ‘আগে প্রতিবছর জন্মদিনে মনে হতো, আমি তো এক বছর করে বড় হচ্ছি। ভেবে খুব আনন্দ পেতাম। কিন্তু এখন কষ্ট হয়। কারণ এখন বুঝি, বয়স বাড়ছে না, কমছে।’
নায়কের ইচ্ছা, জীবন দ্রুত ফুরিয়ে যাবার পথে এগিয়ে গেলেও যতদিন বেঁচে আছেন ভালো কাজের মধ্যে সেটির ইতি টানতে চান।
সোহেল রানা বলেন, ‘এই ক্ষুদ্রজীবনে চলার পথে সবার ভালোবাসা পেয়েছি। জন্মদিনে সবার দোয়া চাই। যেন সুস্থভাবে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারি।’
বিশেষ দিন একুশে ফেব্রুয়ারি জন্মদিন হওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই নায়ক-প্রযোজক। তার ভাষায়, ‘২১শে ফ্রেব্রুয়ারি জন্মদিন হওয়ায় কখনোই ঘটা করে সেটি পালন করিনি। বড়জোর কাছের মানুষজন বাসায় আসে। শুভেচ্ছা জানায়। এবারও এভাবেই কাটছে জন্মদিন।’
বলা দরকার, সোহেল রানার পৈতৃক বাসস্থান বরিশাল জেলায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬১ সালে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন সোহেল রানা।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর ক্যারিয়ার গড়েন চলচ্চিত্রাঙ্গনে। তখন পারিবারিক নাম মাসুদ রানা বাদ দিয়ে চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘সোহেল রানা’ নামে। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ ছবির প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন সোহেল রানা। এটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। সিনেমাটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়। ১৯৭২ সালে ‘মাসুদ পারভেজ’ নামে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন এ অভিনেতা।
১৯৭৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের একটি গল্প অবলম্বনে ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। একই সিনেমার মাধ্যমে তিনি মাসুদ পারভেজ নামে পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন। অভিনয় ক্যারিয়ারে ‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’সহ প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল রানা।



