Uncategorized

শহীদ মিনারে ডিসি আগে ফুল দেওয়ায় এমপির ক্ষোভ, বললেন ‘মিটিংয়ে এর জবাব নেবো’

দিনাজপুরে প্রটোকল না মেনেই সংসদ সদস্যর আগে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দিনাজপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেছেন, এটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।

দিনাজপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে তার আগেই শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গতকালকে (একুশের প্রথম প্রহরে) যেটা অন্যায় করেছে। আগে এমপির ফুল দেওয়া হবে তারপর জেলা প্রশাসক, নিয়ম তো এটা। তারা মাইকে যে ঘোষণা করেছে সেখানেও আগে জেলা প্রশাসকের নাম বলে, তারপর এমপির নাম বলেছে। আগামীকাল (রবিবার) আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আমি এটার জবাব নেবো, এটা কেমন করে হয়েছে? একজন পার্লামেন্ট মেম্বার নিশ্চয়ই ডিসির নিচে না। তাদের মন্তব্য যে ডিসি আগে ফুল দেবে। তারা নাকি এটা জানেই না। এটা আমি নিন্দা জানাই এবং তারা যেটা করেছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, শুক্রবার রাতে দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ ময়দানের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম। এ সময় দিনাজপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম থাকলেও তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি মাইকে ঘোষণার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের লোকজনকে জানালেও তারা জানান, এই নিয়মটা তাদের জানা নেই।

সংসদ সদস্যের আগে জেলা প্রশাসক ফুল দিতে পারেন কি না এ বিষয়টি জানতে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাকে ম্যাসেজ দেওয়া হলেও তিনি তার উত্তর দেননি।

এর আগে তিনি দিনাজপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকল্পে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দিনাজপুরে প্রধান সমস্যার মধ্যে ভারী শিল্প-কলকারখানার অভাব রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠে নাই। দুই-তিন লেন বিশিষ্ট সড়কের অভাব ও সড়কের বেহাল অবস্থা। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের বিস্তার যুবকদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জেলার চালকলগুলোও বন্ধের উপক্রম। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রশাসনে সকল স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে সহযোগিতা করা হবে। দিনাজপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগ বান্ধব জেলা গড়ে তুলতে মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। জনগণের সেবক হিসেবে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। দিনাজপুরে কোনও চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button