শুল্ক নিয়ে রায়েও কাটছে না শঙ্কা, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক ব্যবস্থাকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনই স্বস্তির কোনও লক্ষণ দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং আদালতের এই রায়ের পর বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও ধোঁয়াশা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) অধীনে আরোপিত শুল্কগুলো বাতিল হলেও ট্রাম্প যে ভিন্ন কোনও আইনি পথে পুনরায় শুল্ক আরোপ করবেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত। ইতোমধ্যে ট্রাম্প আগামী ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
কমছে গড় শুল্ক হার
গ্লোবাল ট্রেড অ্যালার্ট-এর হিসাব অনুযায়ী, আদালতের এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যভিত্তিক গড় শুল্ক হার ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নামবে। বিশেষ করে চীন, ব্রাজিল ও ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। আইইইপিএ-এর অধীনে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন
আদালতের রায়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের করা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো নিয়ে। গত এক বছরে কয়েক ডজন দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বা নির্দিষ্ট শর্তে শুল্ক কমানোর চুক্তি করেছিল। এখন তারা সেই চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা বা নতুন করে দরকষাকষির সুযোগ খুঁজছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড ল্যাঞ্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “অবাধ ও স্বেচ্ছাচারী শুল্কের যুগ সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। আমাদের এখন খুব সতর্কতার সঙ্গে এই রায়ের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।”
অন্যদিকে, ব্রিটেন আশা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বর্তমান ১০ শতাংশের বিশেষ শুল্ক সুবিধা বহাল থাকবে।
মানিয়ে নিচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি
ট্রাম্পের শুল্ক আঘাত সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশের ঘরে থাকবে। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলছে, শুল্কের বড় অংশই আসলে বহন করছেন মার্কিন নাগরিকরা।
এদিকে মার্কিন শুল্কের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের কথা জানিয়েছে চীন। মার্কিন বাজারের বিকল্প হিসেবে তারা বিশ্বের অন্য প্রান্তের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুগেল-এর গবেষক নিকলাস পোয়াতিয়ারের মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্য চুক্তি অনেক ক্ষেত্রে একপাক্ষিক মনে হয়েছিল। আদালতের নতুন রায়ের পর সেই চুক্তিগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য এক নতুন ‘অনিশ্চয়তার বসন্তে’র দিকে পা বাড়াচ্ছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



