Uncategorized

অস্থির এক বছর শেষে মার্কিন অর্থনীতির গতি মন্থর

শুল্কারোপ, অভিবাসনে কড়াকড়ি আর সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অস্থির একটি বছর পার করলো মার্কিন অর্থনীতি। বছর শেষে বিশ্বের বৃহত্তম এই অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১.৪ শতাংশে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৪.৪ শতাংশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় কমে যাওয়া এবং ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থা বা ‘শাটডাউন’ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে মার্কিন অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২ শতাংশ। বিভিন্ন চাপের মুখে থাকলেও এই হার অনেক অর্থনীতিবিদের পূর্বাভাসের চেয়ে ভালো। তবে বছরজুড়ে বাণিজ্য নীতিতে ঘনঘন পরিবর্তনের ফলে অর্থনীতির সূচকগুলো ছিল অনেকটাই অস্থিতিশীল।

বছরের শুরুতে অর্থনীতিতে কিছুটা সংকোচন দেখা দিয়েছিল। মূলত নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে পণ্য আমদানির হিড়িক জানানোয় জিডিপি গণনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বসন্ত ও গ্রীষ্মে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বছরের শেষ দিকে আমদানির পরিমাণ আবার বেড়ে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে।

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক অর্থনীতিবিদ আগে থেকেই প্রবৃদ্ধি কমার আভাস দিয়েছিলেন, তবে প্রকৃত চিত্র ধারণার চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উত্তর আমেরিকা বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ পল অ্যাশওয়ার্থ বলেন, সরকারি শাটডাউন অর্থনীতির ওপর ধারণার চেয়েও বেশি বড় ধাক্কা দিয়েছে। তবে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রবৃদ্ধি নিয়ে উচ্চাশা না রাখতে সতর্ক করেছিলেন। এই অচলাবস্থার জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে তিনি বলেন, শাটডাউনের কারণে জিডিপি অন্তত ২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি সেবা স্থগিত থাকায় চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ কমেছে, যদিও এর প্রকৃত প্রভাব আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতির এই মন্দাভাবের মধ্যেই নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পছন্দের পরিমাপক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি আগের প্রান্তিকের ২.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button