হাজারীবাগে স্বামীর সঙ্গে অভিমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’

রাজধানীর হাজারীবাগে স্বামীর ওপর অভিমান করে আনিশা ফেরদৌসী (২২) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হাজারীবাগ ঢালি অফিসের পাশে একটি বহুতল ভবন থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে যাচাই-বাছাই শেষে ওই তরুণীকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
নিহত আনিশা বরিশালের উজিরপুরের আমিরুল ইসলামের মেয়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তেন তিনি। হাজারীবাগের যে বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় সেটিতে ভাড়া থাকতেন আনিশা।
নিহতের স্বজনদের দাবি, পারিবারিক কলহে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করেই গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আনিশা।
নিহতের ফুপা জলিল রহমান বলেন, “আমার স্ত্রীর বড় ভাই আমিরুল ইসলামের মেয়ে আনিশা। সে ছোট থেকেই আমাদের কাছে বড় হয়েছে। আমাকে বাবা হিসেবে জানতো। তার বাবাকে মামা হিসেবে জানতো। বর্তমানে ওই বাসাতে থেকে লেখাপড়া করতো। ২০২৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে কুষ্টিয়ার সেলিম রানার সঙ্গে গোপনে আনিশা বিয়ে করে। সেলিম আগেও একটি বিয়ে করেছে। এসব বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। পাঁচ দিন আগে আনিশা বিষয়টি আমাদেরকে জানায়।”
তিনি আরও বলেন, “সেলিমকে আগের স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে বলে আনিশা। কিন্তু, সেলিম তাতে রাজি ছিলো না। এভাবে না থাকতে পারলে আনিশার সঙ্গে থাকা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দেয় সেলিম। এর জেরে অভিমানে সবার অগোচরে বিকালে রুমে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় আনিশা।”
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।”



