জড়িতদের তালিকা করার নির্দেশ হাইকোর্টের

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট এবং বাহুবল উপজেলার সিলিকা বালুমহাল থেকে আইনবহির্ভূত ও নির্বিচার বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মূল্যায়ন করে অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালত খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার (মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল) নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আগামী তিন মাসের মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, ২০১৩ সালের গেজেটভুক্ত এই সিলিকা বালু খনিগুলো থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববিহীন, অবৈধ এবং জনস্বার্থবিরোধী’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী, তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট এস. হাসানুল বান্না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মাদ শফিকুর রহমান।
‘বেলা’ জানায়, হবিগঞ্জে ২৩টি সিলিকা বালুমহাল রয়েছে যার অধিকাংশই চা-বাগানের ভেতরে অবস্থিত। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩১-১৪৩২ বাংলা সনে এই বালুমহালগুলো ইজারা দেওয়া হয়নি। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে চুনারুঘাটের সুতাং নদীর চাকলাপুঞ্জি, দেউন্দি চা-বাগান, রঘুনন্দন পাহাড় এবং বাহুবলের বৃন্দাবন চা-বাগানসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বালু উত্তোলনে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করায় পাহাড়ের পাশের টিলাগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনও সময় টিলা ধসে প্রাণহানিসহ অপূরণীয় প্রাকৃতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



