বিএনপি নেতার মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা কারাগারে

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বিএনপি নেতার করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (রাজারহাট আমলি আদালত) বিচারক মো. মমতাজুল করিম এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো হাসান জিহাদী (২৫) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের রাজিকুল ইসলামের ছেলে। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) হাবিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন পরবর্তী ‘সহিংসতায়’ প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাসান জিহাদীসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। ওই মামলায় হাসান জিহাদীকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় বাগবিতণ্ডার জেরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় খলিলুর রহমান রুকু ও হাসান জিহাদীসহ এনসিপির প্রার্থী পক্ষের বেশ কিছু নেতাকর্মী বিএনপি নেতা ও বাদী শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়। এ সময় হাসান জিহাদী বিএনপি নেতা শহিদুলের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতা শহিদুল রাজারহাট থানায় হাসান জিহাদীসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে হাসান জিহাদীসহ মামলার এজাহারনামীয় সব আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত অভিযোগের মাত্রা বিবেচনায় হাসান জিহাদীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে আত্মসমর্পণকারী অপর আসামিদের জামিন দেন।
জিআরও হাবিব বলেন, ‘মামলার সব আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। অন্য আসামিদের জামিন হলেও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের গুরুতর অভিযোগ থাকায় হাসান জিহাদীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।’
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা, জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজারহাট থানার উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক বিষয়, তদন্ত করতে একটু সময় লাগবে।’



