রাজধানীতে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর নিউমার্কেট ও লালবাগে পৃথক ঘটনায় এক নারী ও এক পুরুষের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, খাদিজা আক্তার (২৩) ও চুন্ন সর্দার (৫০)।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালের মধ্যে ওই দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ সূত্রধর জানান, শনিবার রাতে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ওই থানার এলিফ্যান্ট রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত খাদিজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বরাদ দিয়ে তিনি জানান, স্বামীর বাড়িতে যাওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কলহে ওই নারী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ঘটনার একদিন আগে তার স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তার স্বামী সাকিন বাবার বাড়ি চলে যান।
ওই বাসার গৃহকর্তী শাহনাজ জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে সাকিনকে নিয়ে সাবলেটে ভাড়া থাকতো খাদিজা। যে দিন সাকিন থাকতো না, সেদিন জেরিন নামে খাদিজার এক বান্ধবী তার সঙ্গে থাকতো। খাদিজা চাকরি করতো। সংসারের খরচ তার বাবাই বহন করতো। তার স্বামী এখনও পড়াশোনা করতো বলে শুনেছিলাম।
গত রাতে খাদিজার বান্ধবী ফোন করে। কিন্তু খাদিজা ফোন ধরে না। আমরা ডাকাডাকি করেও তাকে পাই না। রুমও বন্ধ না। পরে সকিনকে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দরজা খুলে খাদিজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে খাদিজা।
অপর দিকে, রবিবার সকাল ১০টার দিকে লালবাগ থানার শহিদ নগর ২ নম্বর গলির বাসায় চুন্নুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধার করেন লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন।
বরিশাল মুলাদির মৃত আলালুদ্দিনের ছেলে চুন্নু। মৃতের রুমমেট সুরুজ কবিরাজের শনাক্তমতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে দুপুরে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের বরাদ দিয়ে এসআই নাজমুল হোসেন বলেন, চুন্নু ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করতো। শহিদ নগর ওই বাসায় সাবলেট থাকতো। চুন্নু আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিল। তার পরিবার গ্রামের বাড়ি থাকে। পরিবার পরিচালনা, অর্থিক সমস্যা নিয়ে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এছাড়া অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে।



