রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা-হট্টগোল, ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও তার কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আহাদ নামে রুমিন ফারহানার এক কর্মী বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনিসহ মামলার এজাহারনামীয় আসামি পাঁচ জন। আর অজ্ঞাতনামা আসামি ১৪৫ জন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘মামলার এজাহারনামীয় আসামি পাঁচ জন। বাকিরা অজ্ঞাতনামা আসামি। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উপস্থিত হন রুমিন ফারহানা। এ সময় তার সঙ্গে কয়েক শ নেতাকর্মী ছিলেন। তাদের কয়েকজন তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রুমিন। এ সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ১২টা ১ মিনিট বাজার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান তিনি। একই সময়ে ফুল দিতে আসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য আনোয়ার হোসেন। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহীদ মিনারের আশপাশে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়েন। শহীদ মিনারে দেওয়া ফুলও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ অবস্থায় শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার কয়েক শ সমর্থক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ করেন। তারা লাঠিসোঁটা হাতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত দেড়টার দিকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় পদ হারান তিনি।



