Uncategorized

লো প্রেসার থাকলে রোজদারের যা করা উচিত

রোজা কেবল ধর্মীয় অনুশাসন নয়, আত্মসংযম ও শারীরিক শুদ্ধতারও একটি অনন্য অভ্যাস। তবে যাদের লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবুও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি ও জীবনযাপনের কিছু নিয়ম মেনে চললে নিরাপদভাবে রোজা রাখা সম্ভব।

লো প্রেসার কী এবং কেন সমস্যা বাড়ে

লো প্রেসার হলে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে, ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পানি ও খাবার না নেওয়ার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা ও লবণের ঘাটতি তৈরি হলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

সেহরিতে যা খাবেন

লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেহরির খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন খাবার বেছে নিতে হবে যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে এবং শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, দই, সবজি ও ফল সেহরির জন্য ভালো। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

লবণযুক্ত খাবার সামান্য পরিমাণে রাখা যেতে পারে, কারণ সোডিয়াম শরীরে তরল ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলাই ভালো।

ইফতারে কীভাবে ভারসাম্য রাখবেন

ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙার পর হালকা স্যুপ, ফল বা শরবত খাওয়া যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে মূল খাবার গ্রহণ করলে হঠাৎ রক্তচাপ ওঠানামার ঝুঁকি কমে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খাওয়াই উত্তম, কারণ এগুলো দ্রুত দুর্বলতা বাড়াতে পারে।

পানি ও ইলেকট্রোলাইটের গুরুত্ব

লো প্রেসার রোগীদের জন্য ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ওরাল স্যালাইন জাতীয় পানীয় শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা কমে।

জীবনযাপনে যে সতর্কতা প্রয়োজন

রোজার সময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়া বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, ধীরে ধীরে কাজ করা এবং ভারী ব্যায়াম থেকে বিরত থাকা লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রয়োজনে দুপুরে অল্প সময় ঘুম শরীরকে সতেজ রাখে।

কখন রোজা ভাঙা জরুরি

যদি মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব, তীব্র দুর্বলতা বা বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে রোজা ভেঙে পানি বা খাবার গ্রহণ করা উচিত। স্বাস্থ্যই সর্বাগ্রে—এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শ কেন গুরুত্বপূর্ণ

যাদের দীর্ঘদিন ধরে লো প্রেসারের সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাদের রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অবস্থার ভিত্তিতে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

সচেতনতা থাকলে রোজা নিরাপদ

লো প্রেসার থাকলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম বজায় রাখলে নিরাপদে রোজা রাখা সম্ভব। মূল বিষয় হলো শরীরের সংকেত বুঝে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button