প্রোটিয়াদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ভারত, বিশ্বকাপে বড় হার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি হয়েছিল গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার অবশ্য ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৭৬ রানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিজেদের জানান দিয়েছে প্রোটিয়া দল।
২০২৪ সালে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ছিল এই ম্যাচ। সেবার ভারত ৭ রানে জিতেছিল। এবার মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে প্রোটিয়ারা। শুধু কি তাই? এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে ভারতের সবচেয়ে বড় হারের নজির!
গ্রুপ পর্বে টানা চার জয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে ওঠা ভারত আহমেদাবাদে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে। ১০ ওভারে ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়ে বড় ব্যবধানে হার মেনে নেয় সূর্যকুমারের দল।
অথচ টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটা শুরুতে মনে হচ্ছিল আত্মঘাতী। আহমেদাবাদে ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতে বিপদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম, কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। তিন উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন মিলার ও ব্রেভিস। সেখান থেকে ডেভিড মিলারের ৩৫ বলে ৬৩ এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ২৯ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। মিলারের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়। ম্যাচসেরাও তিনি।
মিলার শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি, অন্য প্রান্তে ব্রেভিস দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। ব্রেভিস হাফসেঞ্চুরি থেকে পাঁচ রান দূরে থামলেও ২৬ বলে ফিফটি পূরণ করেন মিলার। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫১ বলে ৯৭ রান যোগ করেন তারা। ১৬তম ওভারে মিলারের বিদায়ের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫২। অথচ তিনি যতক্ষণ ছিলেন, স্কোর আরও বড় হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিকে জসপ্রীত বুমরা ও আরশদীপ সিংয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিং কিছুটা লাগাম টানে। তার পরও ত্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান তুলতে পেরেছে প্রোটিয়ারা। হার্দিক পান্ডিয়ার শেষ ওভারেই এসেছে ২০ রান! স্টাবসের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৩টি ছক্কা।
১৫ রানে ৩ উইকেট নেন বুমরা। ২৮ রানে দুটি নেন আরশদীপ।
জবাবে বল হাতে প্রথম ওভারেই ইশান কিশানকে শূন্য রানে ফেরান মারক্রাম। তিন বল পর তিলক বর্মাকেও বিদায় করেন মার্কো ইয়ানসেন।
কিশানের ওপেনিং পার্টনার অভিষেক শর্মা টানা তিন শূন্য রানের পর এদিন রান পেলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মাঝপথে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (১৮) আউট হলে ভারতের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
১৫তম ওভারে ৩ উইকেট তুলে নেন কেশব মহারাজ। আর ১৯তম ওভারে দুই উইকেটসহ ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন ইয়ানসেন। যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরার শিবম দুবের (৪২) উইকেটও ছিল। এছাড়া ১২ রানে দুটি নেন করবিন বশ।



