Uncategorized

মোহাম্মদপুরে আমির হোসেন হত্যা: দম্পতিসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারে মো. আমির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় মূল আসামি কবির হোসেনসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত আদালতের বিচারক মো.খোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার মিলন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কবির বাদে বাকি দণ্ডিতরা হলেন, কবির হোসেনের স্ত্রী স্বপ্না, তার ভাই মে. হুমায়ুন ও মো. ফালান ও মো. মিলন ওরফে নূরু।

রায় পড়তে গিয়ে বিচারক বলেন, ভুক্তভোগী আমির হোসেনকে হত্যা করা হয় মাদক সেবন কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগী ও আসামিরা সবাই মাদকসেবী। আসামি কবিরের স্ত্রীকে ভুক্তভোগী মারধর এবং গালাগালি করে যা তিনি সহ্য করতে পারে না। এ জন্যই হয়তো কবির আমিররকে আঘাত করে। কিন্তু, তার আঘাত ছিল খুবই গুরুতর। জবানবন্দিতে আসামি কবির আমিরকে চাকু দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কবিরের বউ স্বপ্নাও সেখানে ছিল। তবে সে হত্যায় প্ররোচিত করেছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

রায়ের পরে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন আসামি কবির হোসেন। এ সময় মায়ের সঙ্গে আদালতে আসা বাচ্চাকে চুমু খেতে খেতে বলেন, “যান বাঁচছে মা দোয়া কইরো।” তখন কবিরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে তার মা। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিহত আমির হোসেন রাজধানীর পলাশীর মোড়ে চা-সিগারেটের দোকান চালাতো। হত্যার সাত থেকে আট মাস আগে স্বপ্না বেগম নামে এক মহিলার সঙ্গে শহিদ মিনার এলাকায় তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি মহিলাকে মারধর করেন।

২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি রাত ১০টায় দোকান বন্ধ করার পর স্বপ্নার স্বামী কবিরসহ চারজন কৌশলে আমিরকে মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন স্বপ্না। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমিরের ওপর আক্রমণ করে আসামিরা। কবির চাকু দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।

এ ঘটনার পরের দিন নিহতের ভাই মো. জাকির হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় স্বপ্না ও তার স্বামী কবিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button