এলিয়েন নথি প্রকাশের নির্দেশ ট্রাম্পের, জল্পনা থামবে?

মহাকাশ থেকে আসা এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসী কিংবা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে থাকা গোপন নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। তবে এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে মজার একটি মন্তব্যও করেছেন ট্রাম্প। ওবামা বলেছিলেন, এলিয়েন সত্যিই আছে, তবে তাদের দেখা যায়নি। পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর অবশ্য আগের এক প্রতিবেদনে বলেছে, এলিয়েনের কোনও প্রমাণ তারা পায়নি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবরটি জানিয়েছে।
সম্প্রতি এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, প্রতিরক্ষা দফতর ও অন্যান্য সংস্থাকে এসব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মজার বলে উল্লেখ করেন।
একই দিনে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ওবামা এলিয়েন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন।’ ট্রাম্পের দাবি, ওবামার এমন করা ঠিক হয়নি।
একটি সাক্ষাৎকারে ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এলিয়েন কি সত্যিই আছে? জবাবে ওবামা বলেন, ‘এলিয়েন সত্যিই আছে, তবে আমি তাদের দেখিনি। আর এদের বিখ্যাত এরিয়া ৫১-তে লুকিয়ে রাখা হয়নি।’
এরিয়া ৫১ যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত একটি গোপন বিমানঘাঁটি। অনেকের ধারণা, সেখানে এলিয়েনের মরদেহ ও তাদের উড়ন্ত চাকতি (সসার) লুকিয়ে রাখা আছে। তবে সরকারি নথি বলছে, এটি ছিল গোপন উড়োজাহাজ পরীক্ষার জায়গা।
ওবামা পরে আবার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি এলিয়েনের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও প্রমাণ পাননি। মহাকাশ এত বিশাল যে অন্য কোথাও প্রাণ থাকতে পারে, কিন্তু পৃথিবীতে তাদের আসার সম্ভাবনা খুবই কম।
ট্রাম্পও পরে স্বীকার করেন, এলিয়েন আসলেই আছে কি না, সেটা তিনি নিজেও জানেন না।
এর আগে পেন্টাগন বেশ কয়েকবার ইউএফও নিয়ে তদন্ত করেছে। ২০২২ সালে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এলিয়েন পৃথিবীতে এসেছে বা এসে পড়েছে এমন কোনও প্রমাণ তারা পাননি। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগন আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সরকার যত তদন্ত করেছে, কোথাও এলিয়েন প্রযুক্তির প্রমাণ মেলেনি। অধিকাংশ ইউএফও আসলে সাধারণ কোনও কিছুকে ভুল করে দেখা।



