Uncategorized

মেক্সিকোতে মাদক সম্রাট এল মেনচো নিহত, দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী অপরাধী চক্রের প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সারভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। এই মাদক সম্রাটের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জালিস্কোসহ অন্তত ছয়টি রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

মেক্সিকোর জাতীয় প্রতিরক্ষা সচিবালয় জানিয়েছে, রবিবার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন এল মেনচো। এরপর হেলিকপ্টারে করে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের সময় তার মৃত্যু হয়। ৫৯ বছর বয়সী এই মাদক সম্রাটকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

অভিযানের পর এল মেনচোর অনুসারী বন্দুকধারীরা বিভিন্ন রাজ্যে তাণ্ডব শুরু করেছে। জালিস্কো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো এবং তামাউলিপাসে মহাসড়ক অবরোধ করে বহু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের ভেন্যু গুয়াদালাহারা শহর কার্যত ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুয়াদালাহারা বিমানবন্দরে আতঙ্কিত মানুষকে ছুটোছুটি করতে এবং পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছেন। বেশ কয়েকটি রাজ্যে সোমবারের স্কুল পাঠদান বাতিল করা হয়েছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে আমাদের পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। দেশের বিশাল অংশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সিনালোয়া কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা ‘এল চাপো’ গুজমান এবং ইসমায়েল জাম্বাদাকে গ্রেফতারের পর এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর মাদকবিরোধী যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভিযানে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সহযোগী ছিল বলে জানিয়েছে মেক্সিকো। অভিযানে এল মেনচোর জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর চার সদস্য নিহত এবং দুইজন গ্রেফতার হয়েছে। সেনাবাহিনীর তিন সদস্য এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে একে মেক্সিকো ও বিশ্বের জন্য একটি ‘বিরাট অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তাদের নাগরিকদের ওই অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। এয়ার কানাডা, ইউনাইটেড এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স গুয়াদালাহারা ও পুয়ের্তো ভালার্তায় তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে মাদক সম্রাট বনে যাওয়া এল মেনচো ২০০৭ সালে সিজেএনজি গঠন করেন। এফবিআই-এর মতে, এটি মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী পাচারকারী সংস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন, হেরোইন এবং ফেন্টানিল পাচারের মূল হোতা।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) সাবেক কর্মকর্তা মাইক ভিজিল সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কার্টেল প্রধানকে হত্যা করলেই মাদক সমস্যা মিটবে না। তাদের অবকাঠামো ও অর্থ পাচার ব্যবস্থার ওপর দ্রুত আঘাত হানতে হবে। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের চাহিদা কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button