যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন তুষারঝড়: স্কুল বন্ধ, স্থবির জনজীবন

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আছড়ে পড়েছে এক শক্তিশালী শীতকালীন তুষারঝড়। এর প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিউ ইয়র্কসহ বিশাল একটি অঞ্চলের জনজীবন। সোমবার নিউ ইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে বিমান ও সড়ক যোগাযোগ। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তুষারঝড়ের কারণে ওয়াশিংটন থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান সংস্থাগুলো। মার্কিন ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) জানিয়েছে, তুষারপাতের কারণে চিঠিপত্র ও পার্সেল পরিবহন এবং বিলি ধীরগতি হতে পারে।
নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিউ ইয়র্ক সিটির সব পাবলিক স্কুল ভবন সোমবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি দূরশিক্ষণ বা রিমোট লার্নিংও স্থগিত করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত রাস্তায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ২০১৭ সালের পর সিটিতে এই প্রথম প্রবল তুষারঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মেয়র মামদানি নিউ ইয়র্কবাসীদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘রাস্তা পরিষ্কার করার গাড়ি এবং জরুরি সেবার কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দিতে নাগরিকদের বাড়িতে থাকতে হবে।’
মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড
নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক সিটি এবং লোয়ার হাডসন ভ্যালিতে ভারী তুষারপাত ও ঝড়ো বাতাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় সহায়তার জন্য ১০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে সক্রিয় করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে ম্যানহাটনে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরও সোমবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্যমতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোনও কোনও অংশে ২ ফুট পর্যন্ত তুষার জমতে পারে এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতা ও ফেডারেল সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) জানিয়েছে, তাদের ফান্ডের বর্তমান সংকট সত্ত্বেও দুর্যোগ মোকাবিলা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত থাকবে। তবে গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) বন্ধ থাকাকালীন শত শত ত্রাণকর্মীকে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মোতায়েন স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলি এবং নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিলও নিজ নিজ রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য রবিবার সন্ধ্যা থেকে মহাসড়কগুলোতে বাণিজ্যিক যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার-এর তথ্যমতে, সোমবারের জন্য নির্ধারিত ৫ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবারও আরও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। রিপাবলিক এয়ারওয়েজ, জেটব্লু, ইউনাইটেড এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতো বড় সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সড়কপথের পাশাপাশি ট্রেন ও বাস যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। নিউ জার্সি ট্রানজিট রবিবার সন্ধ্যা থেকে বাস, লাইট রেল এবং ট্রেন সার্ভিস স্থগিত করেছে। রোড আইল্যান্ডের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষও পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সেবা বন্ধ রেখেছে।



