সিলেট সিটির প্রশাসক হলেন মনোনয়ন বঞ্চিত কাইয়ুম চৌধুরী

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিলেট-৩ আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তিনিসহ দেশের ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে সরকার। এরপর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে, ২০২২ সালের ২৯ মার্চ কাউন্সিলের মাধ্যমে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এরপর দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রাখেন। ২০২৩ সালের ৯ জুলাই সিলেটে তারুণ্যের সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠলেও তিনি ফিরে পাননি আগের শারীরিক সক্ষমতা। এ অবস্থায়ও তিনি দলের হাল ছাড়েননি। দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবেও তিনি সামনের সারিতে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন।
আব্দুল কাইয়ুম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু, দলের পক্ষ থেকে এ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন না পেলেও দলের বিপক্ষে কোনও অবস্থান নেননি আব্দুল কাইয়ুম। উপরন্তু, সিলেটের ৬টি আসনে তাকে দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলার ৫টি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হন।
কাইয়ুম চৌধুরীর শুভানুধ্যায়ীরা মনে করছেন, দলের প্রতি আনুগত্যের কারণেই তাকে সিসিকের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কাইয়ুম জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তিনি তা পালনের চেষ্টা করবেন। দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় সিলেটকে একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চাই।’
বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। এ ছাড়া, তিনি ঢাকার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।
রবিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। মো. শফিকুল ইসলাম খানকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন মো. শওকত হোসেন সরকার।



