Uncategorized

কাশ্মীরে ইসরালের ‘দমননীতি’ বাস্তবায়ন করছে ভারত?

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইসরায়েল সফরের আগে বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাইরেও দুটি দেশের মধ্যে এক অভিন্ন শাসন ব্যবস্থার আদান-প্রদান ঘটছে। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ভারত শুধু ইসরায়েলের অস্ত্রই কিনছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নীতিগুলো নিজের দেশে, বিশেষ করে কাশ্মীর ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে।

ভারতের একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাট এবং কয়েকটি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বলা হচ্ছে। যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতারা তাদের সমর্থকদের কাছে ‘বুলডোজার বাবা’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। সমালোচকদের মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য ফিলিস্তিনিদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ করছে ভারত। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সম্পত্তি গুঁড়িয়ে না দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে তা অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত আমদানিগুলোর একটি। সাংবাদিক, বিরোধী রাজনীতিবিদ ও সমালোচকদের ফোনে নজরদারির জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। দ্য ওয়ার’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধার্থ বরাদরাজন জানান, ইসরায়েলি এই স্পাইওয়্যার একটি আইফোনকে ব্যক্তিগত গুপ্তচর ডিভাইসে পরিণত করে। তিনি বলেন, সমালোচনা বা বিরোধিতার যেকোনও ক্ষেত্রের ওপর নজর রাখতে এই স্পাইওয়্যার ব্যবহারের ইসরায়েলি মডেলকে মোদি সরকার পুরোপুরি গ্রহণ করেছে।

২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষকরা বলছেন, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণের সঙ্গে মোদি সরকারের ক্রমশ মিল পাচ্ছেন তারা।

‘হোস্টাইল হোমল্যান্ডস’ গ্রন্থের লেখক আজাদ এসসা বলেন, দখলকৃত পশ্চিম তীরের মতোই ভারত কাশ্মীরকে প্রায় স্থায়ী জরুরি অবস্থার মধ্যে রেখেছে। সামরিক উপস্থিতি, নজরদারি তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলছে।

কাশ্মীরে ইসরালের ‘দমননীতি’ বাস্তবায়ন করছে ভারত?

রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক সুমন্ত্র বোসের মতে, কাশ্মীর নিয়ে কোনও রাজনৈতিক আলাপ বা কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা শেষ করে দেওয়া ইসরায়েলের ফিলিস্তিন নীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, এটি নেতানিয়াহুর ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে অস্বীকৃতি ও অসম্পৃক্ততার নীতি এবং সামরিক শক্তির ওপর একচেটিয়া নির্ভরতার মতোই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গভীর সম্পর্কের ভিত্তি হলো একটি অভিন্ন মতাদর্শ। হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা বিজেপির ভ্রাতৃসংগঠন আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে জায়নবাদ ও ইসরায়েলের প্রতি অনুগত। অধ্যাপক বোস বলেন, ইসরায়েলের জাতি-রাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী ও শ্রেষ্ঠত্ববাদী, আর মোদি যুগে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ভারতে সেটাই বাস্তবায়ন করছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা পহেলগাম হামলার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমাদের ইসরায়েলের মতো জবাব দিতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত কি শুধু অস্ত্র নয়, একটি রাষ্ট্রীয় নীতি আমদানি করছে, যা তার নিজস্ব নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে? সাংবাদিক বরাদরাজনের বলেন, খুবই দুঃখের বিষয় যে ইসরায়েলিরা অধিকৃত জনগণের বিরুদ্ধে যে পদ্ধতি ব্যবহার করে, মোদি সরকার সেটা নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করছে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button