দোষ স্বীকার করে প্রধান আসামির জবানবন্দি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লেগুনা চালক খায়রুল ইসলামকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মো. হৃদয় হোসেন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় মো. শাকিল নামের এক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে পুলিশের আবেদনের পর হৃদয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামি হৃদয় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান তা রেকর্ডের আবেদন করেন। এছাড়া অপর আসামি শাকিলকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
জবানবন্দিতে হৃদয় হোসেন বলেন, “আমি হৃদয়, লেগুনা চালাই। গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে চিটাগাং রোডে আমার সঙ্গে খায়রুল ইসলামের লেগুনার সিরিয়ালে যাত্রী ওঠানো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে ওই দিন দুপুরে যাত্রাবাড়ীর লেগুনা স্ট্যান্ডে আবার তার সঙ্গে ঝগড়া লাগে। তখন আমি, রাতুল ও শাকিলসহ আরও কয়েকজন তাকে মারধর করি। এক পর্যায়ে সে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন আমি ও শাকিল তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং রফিক নাম দিয়ে ভর্তি করি। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করলে আমি পালিয়ে আসি।”
এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে র্যাব-১০ হৃদয় ও শাকিলকে আটক করে। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই মামলার আরেক আসামি সোহান মুন্সিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত খায়রুল ইসলাম (৩৫) যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম রোডে লেগুনা চালাতেন। ঘটনার দুই থেকে তিন দিন আগে চিটাগাং রোডের লেগুনা স্ট্যান্ডে আসামি হৃদয়ের সঙ্গে সিরিয়ালে যাত্রী ওঠানো নিয়ে তার বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। ওই সময় হৃদয় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে খায়রুল গাড়ি চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন। দুপুর পৌনে তিনটার দিকে যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তের বিপরীতে লেগুনা স্ট্যান্ডে পৌঁছালে এজাহারনামীয় আট আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। আসামিরা কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে বুকের বাম পাজর, ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় ২১ ফেব্রুয়ারি নিহতের বাবা মো. মোয়াল্লেম সর্দার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।



