Uncategorized

নতুন বাজেট প্রণয়ন শুরু, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর, অন্যান্য প্রত্যক্ষ কর এবং কাস্টমস শুল্ক সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় সংশোধন, সংযোজন ও যৌক্তিকীকরণ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষ কর খাতে মতামত আহ্বান

এনবিআরের কর নীতি উইং থেকে জারি করা এক পত্রে জানানো হয়েছে, রাজস্ব আহরণের অভ্যন্তরীণ উৎস হিসেবে আয়করসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষ কর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও অংশীদারিত্বমূলক করতে অংশীজনদের সুচিন্তিত মতামত ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।

আয়কর আইন ২০২৩, উৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ ও অন্যান্য বিধিমালা। এছাড়া ভ্রমণ কর আইন ২০০৩ এবং দান কর আইন ১৯৯০ এর ওপর প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী হার্ড কপি ও সফট কপি (নিকোষ ফন্ট, সাইজ ১২) কর নীতি উইংয়ে এবং ই-মেইলে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট ধারা, বিদ্যমান বিধান, প্রস্তাবিত সংশোধন, প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি, সম্ভাব্য রাজস্ব প্রভাব ও মন্তব্য উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

কাস্টমস খাতে সংস্কার প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে

অন্য এক চিঠিতে এনবিআরের কাস্টমস অনুবিভাগ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আমদানি পর্যায়ের শুল্ক-কর হার যৌক্তিকীকরণ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

বিশেষ করে ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন এবং এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

কাস্টমস আইন, বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন ও ব্যাখ্যাপত্র সংশোধন বা পরিমার্জন; এইচএস কোডভিত্তিক শুল্ক-কর হার যৌক্তিকীকরণ; ট্যারিফ মূল্য বা ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ/পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে বিদ্যমান হার, প্রস্তাবিত হার, মোট করভার এবং প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ১৫ মার্চের মধ্যে হার্ড কপির পাশাপাশি সফট কপি নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অংশীজনের মতামতে গুরুত্ব

এনবিআর জানিয়েছে, প্রতি বছর বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী সমিতি, অ্যাসোসিয়েশন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়। প্রাপ্ত সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এলডিসি উত্তরণ, বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা ও রাজস্ব আহরণের চাপের প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত সংস্কার এবং করব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button