Uncategorized

রমজানে বেড়েছে সব ফলের দাম, চাপে ক্রেতারা

পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে চট্টগ্রামের বাজারে বিদেশ থেকে আমদানি ও দেশি—সব ফলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় ফল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই দাম বেড়ে গেছে। আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর, আনার ও নাশপাতির মতো আমদানি ফলের দাম রমজানের আগের চেয়ে এখন কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীরা। 

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজায় চাহিদা বাড়ে বলেই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে প্রতিদিন ফলের চালান আসছে। কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা সমন্বয় হতে পারে।

ক্রেতারা বলছেন, ইফতারে ফলের চাহিদা বেশি থাকলেও এমন দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

পাইকারিতেই বেড়েছে দাম

চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন সড়কের ফলের পাইকারি বাজারটি ফলমন্ডি নামে পরিচিত। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফলমন্ডি আড়তে পাইকারিতে ১৫ কেজির মাল্টার কার্টন বিক্রি হয়েছে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৩৫ টাকা দাম পড়ছে। ১০ কেজির সবুজ আঙুরের কার্টন বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায়; প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। ১০ কেজির কালো আঙুর বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা; কেজিতে দাম পড়ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। চীন থেকে আমদানি ২০ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকা; প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা এবং আনারের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া ফ্রান্স, ইউক্রেনসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি ১৮ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা; প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২৭৮ টাকা। নয় কেজির নাশপাতির কার্টন বিক্রি হয়েছে তিন হাজার টাকা; কেজি প্রতি দাম পড়ছে ৩৩৫ টাকা। আট কেজি কমলার কার্টন বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকা; কেজি প্রতি দাম পড়ছে ২৫০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি জাতেই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খুচরা বাজারে বেড়েছে ১০০ টাকা পর্যন্ত

নগরীর বিভিন্ন খুচরা ফলের দোকানে দেখা গেছে, রমজানের আগে আনারের কেজি বিক্রি হতো ৩৫০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। চায়না কমলা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ২৫০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। মাল্টা আগে বিক্রি হতো ৩০০ টাকা, এখন ৩৫০ টাকা। আপেল বিক্রি হতো ৩০০ টাকা, এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। নাশপতি আগে ৪০০ টাকা বিক্রি হতো, এখন ৫০০ টাকা। কালো আঙুর আগে বিক্রি হতো ৪০০ টাকা, এখন ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, সবুজ আঙুর আগে বিক্রি হতো ৩০০ টাকা, এখন ৪০০ টাকা।

আমদানিতে দাম বেশি পড়ছে, দাবি ব্যবসায়ী সমিতির নেতার

আমদানিকারক আঁখি এন্টারপ্রাইজের মালিক ও চট্টগ্রামের ফলমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পাইকারি ফল ব্যবসায়ী তৌহিদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফল আমদানিতে দাম বেশি পড়ছে। এ কারণে বাজারে দাম কিছুটা বেশি। আমরা বিদেশ থেকে প্রতি কেজি ফল এক ডলারের নিচে কিনতে পারি না। সেই ফল কেজিপ্রতি হিসাব করলে ডিউটি ও জাহাজ ভাড়া মিলিয়ে ১ ডলার পরিশোধ করতে হয়। প্রতি কেজি আমদানি মূল্যের সমান যদি শুল্কহার হয় দেশে কম দামে ফল বিক্রির সুযোগ নেই। কেবল আমদানিতে দাম কমালে ভোক্তা পর্যায়ে কম দামে বিক্রির সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমদানি করা ফলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচিত করেছে সরকার। এ কারণে গাড়ি, মদ-সিগারেটের পর তাজা ফল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি শুল্ককর দিতে হয়। প্রতিটি জাতের ফলের আমদানি ডিউটি অনেক বেশি। এ কারণে বাজারে আমদানি করা বিদেশি ফলের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি।’

বেশি দামে কিনতে হয়, দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের ফল ব্যবসায়ী নুরুল আবছার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরাই বিদেশি ফলের দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। কারণ আমরা পাইকারিতে বেশি দামে কিনে খুচরাই বেশি দামে বিক্রি করছি। এতে কিছু ফল পচা ও নষ্ট থাকে। তার ওপর পরিবহন খরচ আছে। সব হিসাব করে আমাদের বিক্রি করতে হয়। তবে ফলের দাম বাড়ায় এখন ক্রেতাও কম।’

খুচরা আরেক বিক্রেতা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, দোকানের ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও পচনশীল পণ্যের ঝুঁকি যুক্ত হয়। এসব ফল বেশি দিন রাখা যায় না। নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিছুটা বেশি রাখতে হয়। পাইকারির সঙ্গে ১০০ টাকা ব্যবধান মানেই, পুরোটা লাভ নয়। লাভ সীমিত।

কমেছে আমদানি 

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহআলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার রমজান ঘিরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা ফল আমদানি হচ্ছে। তবে আগের চেয়ে কম। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপেল আমদানি হয়েছে ৮৪ হাজার ৬৪৮ টন, একই সময়ে কমলা ও মাল্টাসহ আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৯ টন, আঙুর ৩৯ হাজার ৭৬৩ টন, নাশপাতি ৪ হাজার ১৮ টন এবং খেজুর ৫৬ হাজার ২৯৮ টন।’

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশি ফল আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৮৯৪ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আমদানি হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪২৬ টন। চীন, থাইল্যান্ড, ভুটান, মিশর, ব্রাজিল, তিউনিসিয়া, পর্তুগাল, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ফ্রান্স থেকে ফল আমদানি করা হয়।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button