রাঙামাটি থেকে ভারতে কুকুর পাচারের অভিযোগ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ধরে ভারতের মিজোরামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে।
শুধু লংগদুই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকেও কুকুর সংগ্রহ করা হয়। শহরকেন্দ্রিক প্রশাসনের নজরদারি বেশি থাকায় চক্রটি কৌশল বদলে দুর্গম উপজেলা এবং সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোকে টার্গেট করছে। মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে পাংখোয়া পাড়ায় নেওয়া হয় কুকুরগুলো।
জানা গেছে, মূলত মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে। সে সময় এক একটি কুকুর ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই এবং বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় কুকুর পাচার চক্রটি উৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে কুকুর সংগ্রহ করে থাকে।
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের আইনে মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনও প্রাণী হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে সরকার। এভাবে নির্বিচারে কুকুর নিধনে পরিবেশের ভারসাম্যে নষ্টের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রাণী অধিকার সংরক্ষণ কর্মীরা।
রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পথে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরের স্বাস্থ্যগত অবস্থা অজানা থাকায় জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ আক্রান্তের আশঙ্কা থাকে। ভেটেরিনারি পরীক্ষা ছাড়া জবাই এবং ভক্ষণ করলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি অশঙ্কা রয়েছে।’



