Uncategorized

ট্রাম্পের ‘ভাগ্যের জোর’ কি এবারও টিকবে?

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নতুন করে ইরানে হামলার কথা ভাবছেন, তখন খোদ মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরাই প্রশ্ন তুলছেন, বিগত অপারেশনগুলোর মতো এবারও কি ট্রাম্পের ‘ভাগ্যের জোর’ বজায় থাকবে? মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, জেনারেল কেইন মনে করেন ইরানে সামরিক অভিযান চালালে তা ‘সহজেই জয়’ করা সম্ভব। তবে সাবেক মার্কিন সামরিক নেতারা ভিন্ন মত পোষণ করছেন।

ন্যাটোর সাবেক সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস স্টাভরিডিস বলেন, “ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলেও তারা এখনও মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার সক্ষমতা রাখে। আগে থেকে হামলার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।”

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মতো সফল অপারেশনের কারণে ট্রাম্প বর্তমানে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তবে সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জেনারেল ডেভিড পেট্রেয়াস মনে করেন, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নিছক ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছেন।

মাদুরোকে ধরার অভিযানের উদাহরণ টেনে পেট্রেয়াস বলেন, “এটি ওসামা বিন লাদেনের অভিযানের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মাদুরো অপারেশনে একটি মার্কিন হেলিকপ্টারে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল এবং পাইলট পায়ে তিনটি গুলি নিয়েও কোনোমতে সেটি উড়িয়ে নিয়ে আসেন। ওই অভিযানে ৩০ জনেরও বেশি কিউবান স্পেশাল অপারেটর নিহত হয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনও বিমানের যান্ত্রিক গোলযোগ না হওয়াটা ছিল ‘অস্বাভাবিক’। তেহরানের ওপর একটি বিমান বিকল হওয়া মানেই মার্কিন সেনাদের রাস্তায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের বছর এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে নিম্নমুখী। এমন সময়ে ইরানে হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনা নিহত হলে ট্রাম্পের জনসমর্থন ধসে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল বেন হজেস বলেন, “এটি কোনও ভিডিও গেম নয়। প্রেসিডেন্ট এখনও এই অভিযানের কৌশলগত লক্ষ্য পরিষ্কার করেননি, যা একটি বড় সমস্যা।”

ট্রাম্প চাইছেন ইরান যেন তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে। কিন্তু তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আপস করতে নারাজ।

২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। তবে অনেক আরব দেশ এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তারা তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যদি কোনও ভালো চুক্তি না হয়, তবে ইরানের জন্য সময়টা ‘খুব কঠিন’ হবে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button