Uncategorized

৪৩ প্রাথমিক শিক্ষকের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ সরকারের

বেতন স্কেল দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলন-কর্মসূচির ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাঁচ শিক্ষক নেতাসহ ৪৩ জন শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। নীতিমালা না মেনেই নিজ জেলার বাইরে অন্য জেলায় পদায়ন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। গতবছরের ৪ ডিসেম্বর বদলি আদেশে ৪২ জন শিক্ষককে শো-কজ করে বদলি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অপর এক আদেশে একজন প্রধান শিক্ষককে ময়মনসিংহ থেকে বদলি করা হয়, বরিশালে। এই বিষয়টি নিয়ে সারাদেশের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে শিক্ষক নেতারা বিষয়টি নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কথা বলেন। শিক্ষকদের দাবি ন্যয্য দাবি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষকদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের সম্যসা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যবস্থা নিচ্ছি, ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি না।’

বদলির তালিকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচজন নেতার মধ্যে সহকারী সহকারী শিক্ষক রয়েছেন চারজন, প্রধান শিক্ষক একজন।

তাদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহীন-লিপি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপিকে বদলি করা হয় মানিকগঞ্জ সদরের গোলাম মনির হোসেন সরকারি বিদ্যালয়।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দীন মাসুদকে নোয়াখালীর কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লহ্মীপুরের দ: চরলহ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে নওগাঁর রানীরগর উপজেলার ভাটকই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কিশোরগঞ্জ মিঠামইন ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মো. মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে নেত্রকোনা সদরের কয়রা গেবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) সভাপতি শিক্ষক মো. আবুল কাসেমকে বরিশালের চরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।

বদলি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের নিজ জেলায় বদলি করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পদ ফাঁকা থাকলেও ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দাবি— প্রাথমিক শিক্ষকরা দীর্ঘদিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দশম গ্রেড চাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কনসাল্টেশন কমিটি ১২ তম গ্রেডর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশনের কাছে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকদের সরাসরি আন্দোলন-কর্মসূচির বিকল্প রাখেনি অন্তর্বর্তী সরকার।

শিক্ষকদের তিন দাবি

সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ পূরণ করতে হবে।

১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে উন্নীত স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

দশম গ্রেডের যৌক্তিকতা

শিক্ষক নেতারা জানান, তিন দফা দাবির মধ্যে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের কথা বলা থাকলেও সহকারী শিক্ষকদের চাওয়া ছিলো ১১তম গ্রেড। শিক্ষক শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য, পুলিশি নির্যাতন ইত্যাদি নানা কারণে দশম গ্রেড চাওয়া হয়েছে।

দশম গ্রেড চাওয়া যৌক্তিকতা তুলে ধরে খায়রুন নাহার লিপি বলেন, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পান। সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন লড়াই করেও ১১তম গ্রেড পায়নি। দশম গ্রেড নির্ধারণসহ তিন দফা দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছিলেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা আশ্বাস পেলে আন্দোলন-কর্মসূচির প্রয়োজন হতো না। সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় একাধিকবার শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেও তা প্রত্যাহার করেন।

আন্দোলন কর্মসূচি

২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে চাকরি করতেন সহকারী শিক্ষকরা। ওই বছর ২৯ আগস্ট তাদের মধ্যে দুই ধাপ বেতন বৈষম্য সৃষ্টি হলে সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষক সমিতি থেকে আলাদা হয়ে তাদের বেতন বৈষম্য নিরসনের আন্দোলন শুরু করেন। অপরদিকে, দশম গ্রেডের দাবিতে সরকারি পদক্ষেপ না থাকায় প্রধান শিক্ষকরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। রিটের রায়ে রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন আদালত।

আদালতের রায়ের পর গত ৩ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অফিস আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে—  রিট পিটিশন নম্বর-৩২১৪/২০১৮-এর বিপরীতে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রায় বাস্তবায়নে সম্মতি প্রদান করে। অবশিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

এই আদেশের পর দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেডের দাবিতে মহাসমাবেশ করেন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ওইদিন তারা চার দফা দাবি জানায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এরপর দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষককে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

নতুন করে আন্দোলনে সহকারী শিক্ষকরা

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবির মধ্যেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটি সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করে। এই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন সহকারী শিক্ষকরা।

সর্বশেষ, গত ৩০ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। মহাসমাবেশ করে শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচিতে বলা হয়, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করবেন শিক্ষকরা।

সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button