তেলেঙ্গানায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাসে আয় ২ লাখ, প্রকৌশলীর ৭ লাখ

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন খাতে ব্যয় গত এক দশকে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বর্তমানে রাজ্য সরকারকে প্রতি মাসে বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপি খরচ করতে হচ্ছে। ২০১৪ সালে রাজ্যটি গঠনের সময়ের তুলনায় এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় চার গুণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতের শীর্ষ প্রকৌশলীরা মাসে ৭ লাখ রুপি পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠতা ও নিয়মিত বেতন বৃদ্ধির ফলে গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (জিএইচএমসি) অভিজ্ঞ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও মাসে প্রায় ২ লাখ রুপি পর্যন্ত আয় করছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে বিশেষ করে নির্বাচনের আগে দফায় দফায় বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করার ফলে স্থায়ী ব্যয়ের পরিমাণ ব্যাপক বেড়েছে। টিজিজেনকো, টিজিট্রান্সকো এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রধান প্রকৌশলীরা এখন সর্বোচ্চ বেতনভোগীদের তালিকায় রয়েছেন। প্রতি চার বছর অন্তর বেতন পর্যালোচনার ফলে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে তাদের বেতন ৭ লাখ রুপির ঘর স্পর্শ করেছে।
হায়দরাবাদ শহরের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত জিএইচএমসির নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গড়ে মাসে ৭০ হাজার রুপি বেতন পান। প্রবেশনারি পর্যায়ে একজন মিউনিসিপ্যাল কর্মীর আয় মাসে ২৮ হাজার রুপি। তবে দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে জ্যেষ্ঠ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মাসে ২ লাখ রুপি পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন।
কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজ্যের মোট রাজস্বের ৪৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে বেতন, পেনশন এবং ঋণের সুদ পরিশোধে। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশাল ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী, তেলেঙ্গানার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩.০৫ লাখ কোটি রুপি। এর মধ্যে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ১০৮ কোটি এবং স্বাস্থ্য খাতে ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের কল্যাণে রাখা হয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার ৪০১ কোটি রুপি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণের বোঝা ও বড় অঙ্কের বেতন কাঠামো সত্ত্বেও তেলেঙ্গানার জিএসডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের উপরে এবং মাথাপিছু আয় ভারতের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।



