Uncategorized

পাবনায় পুলিশের সামনে জামায়াত নেতাকে পেটালেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানকে মারধর করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল আজ। বিকাল ৩টায় টেন্ডার বাক্স খোলার নির্ধারিত সময় ছিল। তার আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষ দিন। একইসঙ্গে বিকাল ৩টায় দাখিলকৃত টেন্ডার বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে উপজেলায় যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে তার টেন্ডার শিডিউলটি ফেলেন।

এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করেন। সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ প্রথমে তাদের থামাতে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর ইউএনও অফিস থেকে নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষে বের হচ্ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তখন ‌‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলেই তার ওপর হামলা করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ শুধু বাঁজিয়েছে। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারেনি। মারধরের সময় উপজেলা পরিষদ থেকে দৌঁড়ে নিজেকে রক্ষা করেন হাবিবুর রহমান। 

ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ইউএনও সাহেবের কাছে এসেছিলাম আমার এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার দাখিল করেছেন, তার সঙ্গে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানতামও না বিষয়টি। ইউএনও অফিসের কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্থানীয় এমপি ও উপজেলা জামায়াতের আমিরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

তিনি জানান, মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাবলু মিস্ত্রি, শাহীন আলম, সোহলে রানা, বিএনপি নেতা জাবের মোল্লা, জিয়া মুন্সী, রিন্টু, যুবদল নেতা শাহীন, ছাত্রদল নেতা ইমন সহ শতাধিক নেতাকর্মী মারধরের ঘটনায় জড়িত।

অভিযুক্তদের একজন মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিডিউল দাখিল করার শেষ সময় জানার জন্য। গিয়ে দেখি দলের আমাদের লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা। কার সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা তাও জানতাম না। পরে শুনেছি জামায়াত নেতাকে মারধরের কথা। তবে হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।’

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনা যেটি ঘটেছে তা ফৌজদারি অপরাধ। আজকে টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটলো সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন।’

পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটলো জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘কঠিন প্রশ্ন করেছেন তো। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button