Uncategorized

ফরিদপুরে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোরকে হত্যা, ‘মূল অভিযুক্ত’ গ্রেফতার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা এলাকায় আকিজ-বশির জনতা জুটমিলে পায়ুপথে উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় ‌‘মূল অভিযুক্ত’ রিহাত শেখ ওরফে হাকিমকে (২২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় র‌্যাবের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র‌্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মাগুরার শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযানে বোয়ালমারী থানার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোর মারা যায়। নিহত সজিব শরীফের (১৩) বাড়ি দাদপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে। সে ডোবরা এলাকায় অবস্থিত জনতা জুটমিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর গ্রামের কয়েক শ মানুষ জুটমিলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ওই দিন বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত কিশোরের বাবা।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাত ১০টার দিকে আকিজ-বশির জনতা জুটমিলে কর্মরত শ্রমিক মো. সজিব শরীফ কাজ শেষে কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়াই পাইপ দিয়ে শরীর পরিষ্কার করছিল। এ সময় অভিযুক্ত রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে ভিকটিমের পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করায়। এতে ভিকটিমের পেট ফুলে যায় এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতে ভিকটিমের অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচার করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে র‌্যাব।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button