বাবার জীবন অবলম্বনে উপন্যাসটি লিখেছি : সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ: এবারের অমর একুশে বইমেলায় ‘মিয়াভাই’ নামে আমার একটি উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার কথা। তবে এবারের মেলায় বইটির প্রকাশনী অংশ না নেওয়ায় একটু বিলম্ব হতে পারে। অথবা প্রকাশিত হলেও মেলায় পাওয়া যাবে না। অনলাইন প্লাটফর্মে পাওয়া যেতে পারে। তবুও জানিয়ে রাখি, এটি আমার ষোলোতম বই এবং দ্বিতীয় উপন্যাস। সংক্ষেপে বললে, আমার মরহুম বাবার জীবন অবলম্বনে উপন্যাসটি লিখেছি।
প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি এই বইয়ের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?
উত্তর: আমার বাবার ষাট বছরের সংগ্রামী জীবন উপন্যাসটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে তিনি কীভাবে দুহাতে আগলে রেখেছেন, সেসবই উঠে এসেছে কাহিনির মধ্য দিয়ে। যার অনেক কথা তিক্ত মনে হতে পারে। কিছু সত্য অপ্রিয়ও মনে হতে পারে। কাহিনির সময়কাল যেহেতু ২০২৩ সাল পর্যন্ত। ফলে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা কিছুটা প্রভাবিত করেছে। আবার ঠিক সেভাবে প্রভাব না-ও ফেলতে পারে। যদিও প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গেলে সমাজ ও রাজনীতি উপেক্ষা করা যায় না। যেহেতু এটি জীবনভিত্তিক একটি উপন্যাস।
প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল, এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে?
উত্তর: মূলত পরিবেশ-পরিস্থিতি বইমেলাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ চাইলেই সব করতে পারে না। এর সঙ্গে অনেক উপাদান বা উপলক্ষ্য জড়িত। যেহেতু পাঠক, প্রকাশক ও লেখকদের নিয়েই আয়োজিত হয় বইমেলা। তাছাড়া বিষয়টির সঙ্গে জনগণের সমর্থনের ব্যাপারটিও জড়িত।
প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?
উত্তর: প্রভাব অলরেডি পড়ে গেছে। অনেক প্রকাশক এবার অংশ না-ও নিতে পারেন। অনেক লেখক এবার বই প্রকাশ করতে আগ্রহী নন। মেলার সময় কমিয়ে আনায় বিক্রি কম হবে। রমজানের কারণে উপস্থিতি নিঃসন্দেহে কম হবে। তাছাড়া মেলা আগের মতো জমে উঠবে না। কারণ রমজান ও ঈদ কেন্দ্রিক মানুষের আলাদা ব্যস্ততা ও অর্থনৈতিক ব্যাপার জড়িয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত মেলা কতটা সফল হতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা দেখেছি, অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?
উত্তর: এবার এখন পর্যন্ত তেমন আশঙ্কা দেখছি না। যদিও প্রকাশকদের মাঝে হতাশা কমন ইস্যু। নির্বাচনের পরপরই বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ফলে পরিবেশের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?
উত্তর: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বইমেলার জন্য সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এর আগে করোনাকালীন বইমেলা আমরা দেখেছি। সেটা কিন্তু ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রকাশকদের অনেক লোকসান হয়েছে। আমরা ফেব্রুয়ারি মাসেই বইমেলা করে অভ্যস্ত। ফলে অন্য কোনো সময় বইমেলা হলে আবেদন অনেকটাই কমে যায়। এবার রমজান মাসে ইফতার এবং তারাবিহকে কেন্দ্র করে প্রাণহীন হয়ে পড়বে আয়োজন। তবে ধর্মীয় বিষয়টি সবাইকেই গুরুত্বসহকারে দেখতে হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত হলেও কর্মব্যস্ততায় তা ফলপ্রসু হওয়ার মতো নয়। ভবিষ্যতে ঈদের পরে সময় কমিয়ে হলেও বইমেলা করা যেতে পারে। তাতে প্রকাশক এবং লেখকেরা হয়তো একটু স্বস্তি পাবেন।
প্রশ্ন: মেলায় এবং সারা বছর যত বই প্রকাশিত হয় তার ডিজিটাল ডেটাবেইজ কি বাংলা একডেমি বা কোনো কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করতে পারে?
উত্তর: কাজটি মূলত বাংলা একাডেমির নয়; বরং এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আর্কাইভস এবং গ্রন্থাগার অধিদপ্তর করতে পারে। যেহেতু প্রতিটি বইয়ের জন্য তাদের কাছ থেকে আইএসবিএন নাম্বার আনতে হয়। সেই আলোকে তারা বইটির প্রচ্ছদ ও তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রয়োজনে সেটি প্রদর্শনও করতে পারেন।
প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?
উত্তর: বইমেলায় পাঠক-লেখকের সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। যে যত বেশি ভাইরাল; সে তত বেশি জনপ্রিয়। এখানে মনে রাখা জরুরি, এই জনপ্রিয়তা আর পাঠকপ্রিয়তা কিন্তু এক কথা নয়। এখনকার সম্পর্ক অনেকটা সেলফি ও অটোগ্রাফ নির্ভর। লেখক স্টলে থাকলে ভিড়, না থাকলে বই জমে ক্ষীর। এখন বইয়ের লেখার চেয়ে ফেসবুক আইডির ফলোয়ার বা রিঅ্যাক্ট দেখে লেখকের মান নির্ণয় করা হয়। এখানে মৌলিক বলে কোনো শব্দ নেই। কোনো কাঠামোর মধ্যে কেউ আর আটকে নেই। অদ্ভুত রীতিতে চলছে লেখক-পাঠক সম্পর্ক।
প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন বলে মনে করেন?
উত্তর: বইয়ের মান নির্ধারণ কারা করবেন? সে ক্ষেত্রে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই সম্পাদনা পরিষদ বা বাছাই কমিটি থাকতে হবে। অনেক প্রকাশনীর তো প্রুফ দেখার মতোই লোক নেই। লেখক যা ফাইনাল করে দেন, সেটাই ভরসা। ফলে মান আর সম্পাদনার বিষয়টি আপেক্ষিক হয়ে গেছে। ভেতরে কী লেখা আছে, অনেক সময় পাঠকও পাতা উল্টে দেখেন না। ওই যে একটু আগে বললাম, যার বইয়ের পোস্টে লাইক-কমেন্ট বেশি; তার বই কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। এখানে লক্ষণীয়, আমি ‘মানুষ’ বলেছি, ‘পাঠক’ বলিনি। যে কারণে প্রকাশকেরা সচেতন হোন বা না হোন বই নিয়মিত প্রকাশ পাবেই।
প্রশ্ন: কোন প্রকাশনী থেকে আসছে? মূল্য, প্রচ্ছদ ও স্টল নাম্বার জানতে চাই।
উত্তর: বইটি প্রকাশ করছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কিংবদন্তী পাবলিকেশন। এর মুদ্রিত মূল্য রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। পাঠক ৩০০ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবেন। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন চিত্রশিল্পী আইয়ুব আল আমিন। যেহেতু প্রকাশক লোকসানের ভয়ে এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ করেননি, তাই স্টল নাম্বার জানার সুযোগ নেই।



