বিজ্ঞাপনে অতিষ্ঠ? একটু চেষ্টা করলেই এখনও ইউটিউবে বিজ্ঞাপন এড়ানোর উপায় আছে

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় বিজ্ঞাপন এখন প্রায় অবশ্যম্ভাবী। নেটফ্লিক্সে সিরিজ দেখার মাঝখানে, হুলুর নাটকে টানটান মুহূর্তে কিংবা স্পটিফাই প্লেলিস্টে—হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে বিজ্ঞাপন। একই চিত্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবেও। মাসে প্রায় ২৫০ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকেই বিশাল আয় করে ব্যবহারকারীদের সরাসরি টাকা না নিয়েই। এতে নির্মাতা ও দর্শক দু’পক্ষই উপকৃত হন। তবে টানা চারটি বিজ্ঞাপন চলতে থাকলে বিরক্তি চরমে ওঠে।
তাহলে কি উপায়? এখনও কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
বেশিরভাগ ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন ১৫ সেকেন্ড বা তার কম সময়ের হয় এবং ৫ সেকেন্ড পর ‘স্কিপ অ্যাডস’ বোতাম সক্রিয় হয়। ক্লিক করলেই বিজ্ঞাপন এড়ানো যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— আপনি যদি সঙ্গে সঙ্গে স্কিপ করেন, তাহলে সেটি “ এনগেইজড ভিউ কনভার্সন” হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে কনটেন্ট নির্মাতা সেই বিজ্ঞাপন থেকে আয় পান না। নির্মাতারা চাইলে বিজ্ঞাপনকে ‘ আনস্কিপেবল’ বা এড়ানো যায় না—এমনভাবেও সেট করতে পারেন। স্মার্ট টিভিতে দীর্ঘ বিজ্ঞাপন বিরতিও দেখা যেতে পারে।
একই বিজ্ঞাপন বারবার দেখালে বিরক্ত লাগতেই পারে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের সময় ‘ অ্যাবাউট দিছ অ্যাড’ অপশন থেকে “ স্টপ সিইং দিছ অ্যাড” বেছে নেওয়া যায়। এতে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনটি আর না-ও দেখা যেতে পারে।
এছাড়া “রিপোর্ট দিছ অ্যাড” অপশন ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনদাতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যায়, যদি তারা ইউটিউবের নীতিমালা লঙ্ঘন করে। তবে এতে পুরোপুরি বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে না। আপনি চাইলে বিজ্ঞাপন পার্সোনালাইজেশন বন্ধ করেও ট্র্যাকিং কমাতে পারেন।
সবচেয়ে বৈধ ও কার্যকর উপায় হলো ইউটিউব প্রিমিয়াম নেওয়া। এতে বিজ্ঞাপনমুক্ত ভিডিও দেখা যায় এবং নির্মাতারাও আয় পান।
একসময় গুগল ক্রোমে অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করে সহজেই বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যেত। কিন্তু গুগল এখন “ম্যানিফেস্ট ভি৩” নীতির মাধ্যমে অনেক জনপ্রিয় এক্সটেনশন অকার্যকর করে দিচ্ছে।
তবুও কিছু বিকল্প রয়েছে
আপডেটেড অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করা, বিকল্প ব্রাউজার যেমন ব্রেইভ, অপেরা ব্যবহার করা, ফায়াফক্সে অ্যাড ব্লকার এক্সটেনশন ব্যবহার করা। তবে মনে রাখতে হবে, এই পদ্ধতিগুলো ভবিষ্যতে কাজ নাও করতে পারে।
ইউটিউব বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের আয়ের প্রধান উৎস। তাই পুরোপুরি বিজ্ঞাপনমুক্ত অভিজ্ঞতা চাইলে বৈধ সাবস্ক্রিপশনই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। তবে ব্যবহারকারীদের জন্য এখনও কিছু বিকল্প পথ খোলা আছে—যদিও সেগুলোর কার্যকারিতা ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে।



