মাগুরায় ভিজিএফের কার্ড নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১৪

মাগুরায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিশেষ খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি ভিজিএফের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় ১৪ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম। এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাটিকাডাঙ্গা মোড়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সুমন বিশ্বাস (৩৩), জামিল শেখ (৩১), মো. রবিন খান (৩১), বাচ্চু মিয়া (৪৬), মো. সাইফুল ইসলাম (৪৪), মো. ওসমান (২৩), মো. সাব্বির হোসেন (২৫), মো. হাফিজুল ইসলাম (২৭), শান্ত বিশ্বাস (১৯), মো. আরিফ শেখ (৩৫), মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মনিরুল শেখ, শিখা বেগম (২৬) ও আবুল হোসেন আবু (৫৬)। তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে—দলমত নির্বিশেষে যারা সংঘর্ষে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে আবুল হোসেন আবু সমর্থিতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শেখ তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ ছাড়া আসলাম, বাকের, দেলোয়ার, ইয়াছিন, রহিলসহ উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।
পুুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সদর থানায় উভয় পক্ষ দুটি পৃথক মামলা করে। দুটি মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩৫ থেকে ৪৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে এক পক্ষের মামলার বাদীও রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভিজিএফের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’



