Uncategorized

যুদ্ধ এড়ানোর শেষ চেষ্টা: জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা যখন চরমে, তখন তা এড়াতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তিতে আসার আলটিমেটাম দিয়ে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে তেহরানও পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা টেবিলে বসেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিন ঘণ্টা স্থায়ী এই আলোচনা শেষে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেন, উভয় পক্ষ ‘সৃজনশীল ও ইতিবাচক ধারণা’ বিনিময় করেছে। সাময়িক বিরতির পর তারা আবারও আলোচনায় বসবেন। তবে কোনও সুনির্দিষ্ট ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে এত বিশাল সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প যাকে বলছেন একটি ‘আর্মাডা’। এতে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক হাজার সেনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্তসহ নতুন চুক্তিতে না আসে, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত হামলা, এমনকি দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন।

ইরান তাদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তারা কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান কোনও অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।

জেনেভার এই আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ৪০০ কেজি অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে সিদ্ধান্ত এবং একটি আঞ্চলিক সমৃদ্ধকরণ কনসোর্টিয়াম গঠন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুরু থেকেই এমন কোনও চুক্তির বিরোধিতা করছেন যেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে। অন্যদিকে মার্কিন মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক’ আখ্যা দিলেও কেন এখনই সামরিক অভিযান প্রয়োজন, তার সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেননি। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হামলাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধে জয় হবে ‘খুব সহজেই’।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button