Uncategorized

কোথায় আছেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা?

নিউ জিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। তার কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে আরডার্ন ও তার পরিবার সিডনিতে বাড়ি খুঁজছেন। আরডার্নের কার্যালয় জানিয়েছে, পরিবারটি বেশ কয়েক বছর ধরে ভ্রমণ করছে। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়াকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছে। কারণ সেখানে তাদের কাজ আছে এবং এটি নিউ জিল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার জন্যও সুবিধাজনক।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি আরডার্ন, তার স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও সাত বছর বয়সী মেয়ে নেভেকে নিয়ে সিডনির নর্দার্ন বিচেস এলাকায় বাড়ি দেখতে যেতে দেখা গেছে।

এই পরিবারের অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসা নিউ জিল্যান্ডে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। কারণ সম্প্রতি দুর্বল অর্থনীতি, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও বেকারত্বের কারণে রেকর্ড সংখ্যক নাগরিক দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাচ্ছেন, যেখানে গড় সাপ্তাহিক আয় বেশি এবং নিউ জিল্যান্ডের নাগরিকদের কাজ ও বসবাসের অধিকার রয়েছে।

কবে তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন বা কী ধরনের কাজ করছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আরডার্নের কার্যালয়। তবে উল্লেখ করেছে যে, দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক নেতাদের বিদেশে সময় কাটানো অস্বাভাবিক কিছু নয়।

২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে জাসিন্ডা আরডার্ন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হিসেবে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তী ছয় বছরে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ হামলা ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো একাধিক সংকট মোকাবিলা করেন তিনি। পশ্চিমা বিশ্ব যখন ডানপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকছিল, তখন আরডার্নের নেতৃত্ব তাকে বিশ্বব্যাপী বামপন্থি রাজনীতির আইকনে পরিণত করে।

তবে দায়িত্বের শেষ দিকে দেশে তার জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষার কথা দিয়েও তা রাখতে না পারায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। মহামারির শেষ সময়ে যারা টিকা ও সরকারি বিধিনিষেধের বিরোধী একটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী সংসদের সামনে এসে বিক্ষোভ করে এবং আরডার্নকে হুমকি দেয়।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তখন তিনি বলেছিলেন, তার ভেতরে আর শক্তি নেই এ পদে থাকার।

প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর আরডার্ন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর তিনি অনলাইন উগ্রবাদ মোকাবিলায় ‘ক্রাইস্টচার্চ কল’ নামে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা নিয়েও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি প্রিন্স উইলিয়ামের আর্থশট পুরস্কারের ট্রাস্টি বোর্ডে যোগ দিয়েছেন। ২০২৫ সালে তার স্মৃতিকথা প্রকাশিত হয় এবং সম্প্রতি সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে তার জীবন ও নেতৃত্ব নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button