চীনের ৯ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ

চীনের সবচেয়ে বড় বার্ষিক রাজনৈতিক বৈঠক ‘টু সেশনস’ শুরু হওয়ার ঠিক আগে ১৯ জন কর্মকর্তাকে আইন প্রণেতাদের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে বেইজিং। এই ১৯ জনের মধ্যে ৯ জনই সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটি এই অপসারণের ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপসারিত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার লি চিয়াওমিং এবং পিএলএ নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার শেন জিনলং। এছাড়া তালিকায় ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের সাবেক কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান সান শাওচং-সহ বেশ কয়েকজন প্রাদেশিক কর্মকর্তাও রয়েছেন।
যদিও এই অপসারণের কোনও আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি, তবে বিশ্লেষকরা একে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ব্যাপকভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই জিনপিং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়াকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে ‘আইন ও শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা সাধারণত দুর্নীতির সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২০১৩ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই শি জিনপিং ‘টাইগার অ্যান্ড ফ্লাইস’ (বাঘ ও মাছি) নীতিতে উচ্চ ও নিম্ন—উভয় স্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে আসছেন। তার মতে, কমিউনিস্ট পার্টির জন্য দুর্নীতিই হচ্ছে ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’। তবে সমালোচকদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনেও একে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা
আগামী ৪ থেকে ১১ মার্চ বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘টু সেশনস’। এটি মূলত এনপিসি এবং চীনা পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের বার্ষিক সম্মেলন। হাজার হাজার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এই বৈঠকে চীনের পরবর্তী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং বার্ষিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকের আগ মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এই রদবদল চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেও একইভাবে ৯ জন শীর্ষ জেনারেলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।



