Uncategorized

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: নিন্দা-দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি

নরসিংদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও নারী-শিশু সুরক্ষা কাঠামোর গুরুতর দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একজন কিশোরীর জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা। এ ধরনের অপরাধ শুধু ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও চরম লঙ্ঘন।

এইচআরএসএস জানায়, তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে কমপক্ষে ২ হাজার ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৮২৮ জন, যাদের ৪৭৪ জনই ১৮ বছরের নিচে। ১৭৯ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৮ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৪১৪ জন, যার মধ্যে ২৩৬ জনই শিশু।

এছাড়া যৌতুকজনিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন, আহত ৩২ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৮৩ জন, আহত ১৩৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন কমপক্ষে ১৯৪ জন নারী। এসিড সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন ২ জন। অপরদিকে, একই সময়ে অন্তত ১ হাজার ৩৭১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে; তাদের মধ্যে ২৮৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ৮৩ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংগঠনটি মনে করে, ধর্ষণ ও নারী-শিশু হত্যা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়— এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।

এইচআরএসএস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ঘটনার অবিলম্বে স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা, আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদান এবং প্রশাসনিক অবহেলা থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী ও শিশু সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, কমিউনিটি নজরদারি এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার অপরিহার্য। রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে— নারী ও শিশুর জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় সে আপসহীন।

শেষে সংগঠনটি নিহত কিশোরীর আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একইসঙ্গে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button