স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলককে শুধুই ‘অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ: সমালোচনার ঝড়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ পালনের অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে কেবল ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোয় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, সেখানে খোদ পতাকা উত্তোলককে রাখা হয়েছে অতিথির তালিকায়— এই বিষয়টিকেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘সঠিক মর্যাদা দিতে না পারার’ অংশ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
আমন্ত্রণপত্রে যা আছে
আগামী ২ মার্চ অনুষ্ঠানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আ স ম আব্দুর রবকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আগামী ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখ, সোমবার, সকাল ১০:০০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপিত হবে। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান, পিএইচডি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
“অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং মাননীয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
“উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আদিষ্ট হয়ে আপনাকে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।”
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ বলেন, “সর্বপ্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন কেবলমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবজ্জ্বল অধ্যায়। ঢাবি প্রশাসনের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন হেয়ালিপনা নতুন নয়। স্বয়ং পতাকা উত্তোলককে সঠিক মর্যাদা দিতে না পারা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “হাসিনা পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গণমানুষের দ্বারা পুনরুদ্ধারের যে সুযোগ এসেছিল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তা ব্যর্থ করার পথে কাজ করছে। তাই প্রতিষ্ঠানের দিকে না তাকিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহক প্রত্যেকটা মানুষকে আমাদের পূর্ণ মর্যাদা আর সম্মান দিয়ে গণযুদ্ধের ইতিহাস পুনরুদ্ধারের লড়াই লড়ে যেতে হবে।”
সমালোচনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন বলেন, “গত বছরও অনুরূপ আয়োজন করা হয়েছিল।” তিনি জানান, এই অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খানকে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্র জনতার উপস্থিতিতে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা আ স ম আব্দুর রব। প্রতি বছর এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে।



