Uncategorized

একবছরে ৪০০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, উপেক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য

দেশে গত একবছরে ৪০০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে—কৈশোর ও তরুণ বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্য এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা কঠিন।

পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

সমীক্ষা বলছে, ২০২৫ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। কৈশোরের এই সংবেদনশীল সময়ে মানসিক ও আবেগীয় বিকাশের ভঙ্গুরতা তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করেন মনোরোগ চিকিৎসক আতিকুল হক ।

অভিমান ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি: স্কুল শিক্ষার্থীদের ৩২ দশমিক ৬১ শতাংশ আত্মহত্যার পেছনে ‘অভিমান’ কাজ করেছে। এটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা ও পরিবারের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

একাডেমিক চাপ: ২৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পড়াশোনার চাপ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রধান কারণ। প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা তৈরি করছে।

লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি: স্কুলপর্যায়ে গত একবছরে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, কিশোরী মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বয়স ও অঞ্চলভিত্তিক চিত্র

কৈশোর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ: ১৩–১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সর্বোচ্চ—মোট সংখ্যার প্রায় ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। পরিচয় সংকট, সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন ও সামাজিক তুলনা এ বয়সে বড় প্রভাব ফেলছে।

শৈশবের করুণ চিত্র: ১–১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা সমাজের মানসিক ও নৈতিক দুর্বলতার গভীর সংকেত দেয়।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ: ঢাকা বিভাগে ১১৮ জন (২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও নগরজীবনের চাপ সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উত্তরণের প্রস্তাব

এ সংকট মোকাবিলায় আঁচল ফাউন্ডেশন পাঁচটি সুপারিশ করেছে—

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু করা; শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের লক্ষণ শনাক্তে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া; মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও স্টিগমা কমাতে প্রচারণা জোরদার করা; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণের আওতায় আনা; এবং নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে অভিভাবক-শিক্ষার্থী সংযোগ বাড়ানো।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ আতিকুল হকের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button