তেহরান দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কার মুখে তেহরান দূতাবাস থেকে সাময়িকভাবে কর্মী সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের কার্যক্রম বর্তমানে রিমোটলি বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে সচল রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ভ্রমণ নির্দেশিকা হালনাগাদ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের ইসরায়েলে ‘অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া’ ভ্রমণে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
কেবল যুক্তরাজ্যই নয়, চীন, ভারত ও কানাডাসহ বেশ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার তাদের জরুরি প্রয়োজন বহির্ভূত কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক ইমেইল বার্তায় কর্মীদের বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে যারা চলে যেতে চান তারা যেন দ্রুত পরিকল্পনা করেন। বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকতেই ইসরায়েল ত্যাগ করা উচিত।” এর কয়েক দিন আগেই লেবাননের বৈরুত দূতাবাস থেকেও অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনও চুক্তিতে না পৌঁছালে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এত বড় সামরিক সমাবেশ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প একে একটি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল রণতরি বহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার সেনা সদস্য রয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি হবে নাকি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় খারাপ কিছু ঘটবে।”
যুদ্ধের এই দামামার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওমান এই আলোচনাকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানও একে ‘ইতিবাচক’ বলেছে, যদিও হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, সামরিক হামলার বিষয়টি এখনও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সবাই কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করি, তবে তা নির্ভর করছে ইরানিদের আচরণের ওপর।” তিনি আরও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াবে না।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) শুক্রবার এক গোপন রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, কেন্দ্রগুলো তখন ‘বিধ্বস্ত’ হয়ে গিয়েছিল। তবে ইরান দাবি করেছে, এরপর থেকে তারা সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে আইএইএ বলছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন প্রয়োজন।
এসবের মাঝেই আগামী সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানসহ আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।



