পাসপোর্টে সিল জালিয়াতি: ২ বিদেশি নাগরিক রিমান্ডে

পাসপোর্টে অ্যারাইভাল সিল জালিয়াতি করে বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার দুই বিদেশিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
দুই আসামি হলেন—নাইজেরিয়ান নাগরিক চিমারোক ম্যাগনাস উজোইগি (২৬) ও আইভরি কোস্টের নাগরিক ফ্র্যাংক কফি (২৯)।
এদিকে, দুই বিদেশি নাগরিককে আদালতে নেওয়ার সময় ফুটেজ ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকের ফোন ধরে বারবার টান দেওয়া হয়। এ সময় প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এদিন, তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন আসামি দুজনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. আবু বকর ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, আসামিরা সিল জালিয়াতি করে বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে দেখা যায়, তাদের পাসপোর্টে থাকা এরাইভাল সিল জাল। পরে তাদের গ্রেফতার করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নাইজেরিয়ান অ্যাম্বাসির পক্ষে এক আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, আসামিদের একজন ফুটবলার এবং অন্যজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তারা এ অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নন। তাই রিমান্ডের কোনও যৌক্তিকতা নেই।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, দুই বিদেশি আসামি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যথাক্রমে নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়া যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরের ২ নম্বর বহিগমন টার্মিনালের ২৫ নম্বর ডেস্কে আসেন। সেখানে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কাছে তাদের পাসপোর্টের সিল সন্দেহজনক মনে হলে যাচাইয়ের জন্য টার্মিনালের ইনচার্জকে অবগত করা হয়। টার্মিনাল ইনচার্জ মো. শাহীনুর ইসলাম বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য ওসি ইমিগ্রেশনের কাছে পাঠান। পরে ওসি ইমিগ্রেশন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মামলার বাদী ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক এবিএম নূর উদ্দিনের কাছে প্রেরণ করেন।
বাদি আসামিদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, তারা ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের পাসপোর্টে থাকা ভারত ত্যাগের (অ্যারাইভাল/ডিপার্চার) সিল জাল। তদন্তে জানা যায়, তারা ২০ জুলাই ও ১৭ জুলাই ২০২৩ তারিখে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের যে সিল ব্যবহার করেছেন, সেগুলো বৈধ নয়। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তারা পাসপোর্টে এ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আসামিরা কার মাধ্যমে এবং কোন আন্তর্জাতিক চক্রের সহায়তায় পাসপোর্টে জাল সিল ব্যবহার করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন, সেই রহস্য উদঘাটন এবং সহযোগীদের শনাক্ত করতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক এবিএম নূর উদ্দিন বিমানবন্দর থানায় পাসপোর্ট জালিয়াতি, প্রতারণাসহ কয়েকটি ধারায় মামলা করেন।



