মধুর ক্যান্টিনে প্রথমবার সাঈদীকে নিয়ে শিবিরের কর্মসূচি

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে মধুর ক্যান্টিনের সামনে ‘আল্লামা সাঈদীর রায়: ন্যায়ভ্রষ্ট বিচার, গণহত্যা ও আওয়ামী সন্ত্রাস’ শীর্ষক আলোচনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।
তিনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারির যে আজাদির লড়াই, আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আমাদের নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী শিখিয়েছেন, সেই লড়াইয়ের ভিত্তিতেই ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লব হয়েছে।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু ওয়াসিম, শহীদ আলী রায়হান, শহীদ শান্ত ও শহীদ ইসমাইলসহ অসংখ্য শহীদের জীবনীতে দেখা যাবে, তারা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আদর্শ ও বয়ান লালন করতেন, ধারণ করতেন। এই জুলাই বিপ্লব একদিনে হয়নি।”
সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের মানুষের লড়াই-সংগ্রাম রয়েছে। অসংখ্য মানুষের রক্ত ও ত্যাগের মাধ্যমে আজকের জুলাই বিপ্লব। এই জুলাই বিপ্লবের অন্যতম পাটাতন তৈরি করেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি।”
অনুষ্ঠানে ২৮ ফেব্রুয়ারির সকল ‘শহীদদের’ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান ডাকসু ভিপি।
তিনি বলেন, “২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারাদেশের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা রাজপথে ছিল। সেদিন খুনি হাসিনা ও তার পেটোয়া বাহিনী, একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ—পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে এক করে দেশের নাগরিকদের গণহত্যার জন্য লেলিয়ে দেওয়া হয়।”
“২৮ ফেব্রুয়ারির সব ‘শহীদদের’ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়া হোক। একইসঙ্গে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।”
অনুষ্ঠানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিনের স্মৃতিচারণ করে ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান বলেন, “সাঈদী সাহেবের নিয়োজিত আইনজীবী টিম গঠন করা হয়েছিল, আমি তার একজন সদস্য ছিলাম। আমরা জানতাম রায় কী হতে চলেছে। সাক্ষীকে ‘গুম’ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“মামলা চলাকালে আইন পরিবর্তন করা হয়। আমরা যারা নিয়োজিত আইনজীবী ছিলাম, বুঝতে পারছিলাম রায় কোন দিকে যাচ্ছে। আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেহেতু রায়ের দিন হরতাল চলছে, আমরা কেউ আদালতে যাব না। সেদিন দুপুরে নামাজে দাঁড়াতেই খবর আসে, পাখির মতো তিন জনকে ‘শহীদ’ করা হয়েছে।”
সেদিন বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিশ্চুপ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “আমার দায়িত্ব ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ করা। আমি দ্রুত মোবাইলে একটি রিপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছিলাম। সবচেয়ে অবাক হয়েছি মানবাধিকার নিয়ে যারা মুখে ফেনা তোলেন, তাদের নিশ্চুপতা দেখে। সেদিন তাদের মুখ থেকে একটি শব্দও বের হয়নি।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, রংপুর-৬ আসনের সাংসদ মাওলানা নুরুল আমীন, রংপুর-১ আসনের সাংসদ রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সাংসদ গোলাম রব্বানী, যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে সাংসদ নাজিম মোমেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গাজী তামিম।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর সারাদেশে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত-শিবির সমর্থকদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন।



