অনুমতি ছাড়াই হাটের গাছ কেটে গায়েব করে ফেললেন ইজারাদার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অনুমতি ছাড়াই হাটের জায়গায় থাকা সরকারি গাছ কেটে গায়েব করে দিয়েছেন ইজারাদার। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাজার বণিক সমিতির এক সদস্য। শনিবার (২৮ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার খড়িবাড়ী হাট বাজারে এ গাছ কাটার ঘটনা ঘটে।
ইউএনও দিলারা আক্তার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত হাট ইজারাদারের নাম মোশারফ হোসেন দুলাল। তিনি এবং মোহাম্মদ আলী ক্লে নামে অপর আরেক ব্যবসায়ী যৌথভাবে হাটটি পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ গিয়ে জানা গেছে, শনিবার ভোরবেলা খড়িবাড়ী হাট বাজার পরিচয়চালনাকারী মোশারফ হোসেন দুলাল তার লোকজনসহ প্রভাব খাটিয়ে খড়িবাড়ী হাট বাজারের পূর্ব পাশে তাহের প্লাজার (মাংসের হাট সংলগ্ন) কাছে অবস্থিত ৪০-৫০ বছরের পুরোনো একটি কড়ই গাছ কেটে নেন। এরপর সেটি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রাখেন। চিহ্ন মুছতে কেটে নেওয়া গাছের গোড়ায় মাটি ও বালু দিয়ে ঢেকে রাখেন। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। পরে এ নিয়ে বাজার বণিক সমিতির সদস্য আব্দুল লতিফ ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। গাছটির মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
বাজার বণিক সমিতির সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মোশারফ হোসেন দুলাল রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের অসাধু কাজকর্ম করেন। তিনি ভোররাতে বাজারের কড়াই গাছটি কেটে নিয়ে যান। গাছটি কোথায় রেখেছে তার কোনও তথ্য এলাকাবাসীর কাছে নেই। এভাবে সরকারি একটি বিশাল গাছ সে নিমিশেই হজম করে দিল কিন্তু দেখার কেউ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন দুলাল বলেন, ‘গাছটি নির্মাণকাজের সুবিধার্থে কাটা হয়েছে। সেটি আপাতত আমার হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন মনে করি নাই বিধায় জানাইনি।’
ইউএনও দিলারা আক্তার বলেন, ‘বাজারের গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



