অরিজিতের বাবার বয়ানে অজানা গল্প

চলতি বছর ২৭ জানুয়ারি প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে ভক্তদের চমকে দেন অরিজিৎ সিং। সংগীতজগতে আলোড়ন তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নদীপাড়ের শহর জিয়াগঞ্জে তখন অন্য এক আবেগঘন গল্প সামনে আসে। যে গল্পটি একটি পরিবারের দীর্ঘ পথচলার ইতিহাস।
দেশভাগের ক্ষত, নতুন ঠিকানার সন্ধান
অরিজিৎ সিংয়ের বাবা সুরিন্দর সিং জানান, তাদের পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল লাহোরের কাছে। দেশভাগের পর তার বাবা ও কাকারা লালগোলায় চলে আসেন। সেই সময় অসংখ্য পরিবারের মতো তাদেরও সবকিছু ছেড়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছিল।
পেশায় তারা ছিলেন কাপড় ব্যবসায়ী। লালগোলা থেকে ধীরে ধীরে পরিবারটি জিয়াগঞ্জে বসতি গড়ে তোলে। আত্মীয়দের কেউ কেউ পাঞ্জাবিপাড়া এলাকায় স্থায়ী হন। সেখানে শিখ সম্প্রদায় একটি গুরুদ্বার স্থাপন করেন, যা ধীরে ধীরে প্রার্থনা ও মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে আসা জায়গাটিই একসময় হয়ে ওঠে আপন ঠিকানা।
শৈশব, সংগীত আর গুরুদ্বার
জিয়াগঞ্জেই বড় হয়ে ওঠেন অরিজিৎ। পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ‘শোমু’। ছোটবেলা থেকেই সংগীত ছিল তার জীবনের অংশ। বাবা স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিশেষ উপলক্ষে অরিজিৎ মায়ের সঙ্গে গুরুদ্বারে গিয়ে কীর্তন গাইতেন। সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও সংগীতচর্চাই হয়তো তার শিল্পীসত্তার ভিত গড়ে দেয়।
মুম্বাইয়ের সাফল্য, তবু মাটির টান
২০১৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ার পরও জিয়াগঞ্জের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি অরিজিৎ। মুম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠা পেলেও শহরের কোলাহল তাকে টানতে পারেনি দীর্ঘদিন। বাবা বলেন, জিয়াগঞ্জের শান্ত পরিবেশই তাদের পরিবারের আসল আশ্রয়। এখানেই অরিজিৎ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত।
নতুন গান ‘রাইনা’
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে অরিজিৎ সিংয়ের নতুন গান ‘রাইনা’। গানটির সুর করেছেন শেখর রাভজিয়ানি এবং কথা লিখেছেন প্রিয়া। মুক্তির পরই গানটি শ্রোতাদের কান কেড়েছে।
সব মিলিয়ে, অরিজিৎ সিংয়ের জীবনকাহিনি কেবল এক তারকার সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেশভাগের ইতিহাস, শেকড়ের টান এবং মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসার এক অনন্য আখ্যান।
সূত্র: এনডিটিভি



