কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা, সাত আসামি রিমান্ডে

নরসিংদীতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেফতার সাত জনের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) ওমর কাইয়ুম।
এর আগে, গত শুক্র ও শনিবার দুই দিনে সাত আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নরসিংদী জজ কোর্টের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয় গ্রেফতা সাত আসামিকে। বাদীপক্ষে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামি পক্ষে কোনও আইনজীবী দাঁড়াননি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র এক কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেফতার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। নিহত কিশোরীর মায়ের করা মামলায় ৯ আসামির মধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) ওমর কাইয়ুম বলেন, মামলার এজহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চার এবং মীমাংসার নামে বিচার কার্যে সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ তিন জনসহ সাত আসামিকে গ্রেফতারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পলাতক বাকি দুই আসামিকেও দ্রুতই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মামলায় কোনও আইনজীবী আসামি পক্ষকে আইনি সহায়তা দেবে না, রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করবে। পুলিশ আন্তরিক হয়ে মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দিলে ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।



