গাজীপুর আসামি ধরতে গিয়ে স্বজনদের হামলায় ৭ পুলিশ আহত, গ্রেফতার ৪

গাজীপুরের শ্রীপুরে অপহরণ মামলার আসামিদের ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, আসামিদের স্বজনেরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে ও তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
রবিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে হওয়া এ ঘটনায় এক নারীসহ পুলিশের সাত সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন এসআই এবং বাকি ছয় জন কনস্টেবল। আহতরা টাঙ্গাইল সদর থানা এবং শ্রীপুর থানার কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় অপহরণ মামলার দুই আসামিসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, নিজমাওনা গ্রামের মনির হোসেন (৫০) ও তার ছেলে আদিল (২২)। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া বাবা-ছেলে টাঙ্গাইল সদর থানায় করা একটি অপহরণ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। বর্তমানে সবাই শ্রীপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই তাজুল ইসলাম, কনস্টেবল জাকির হোসেন, বাচ্চু মিয়া, কামরুল হাসান, ফাতেমা আক্তার, মোজাম্মেল হোসেন এবং হাসানুর রহমান।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফজলুল হক সুমন বলেন, “আহত সাত পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ছেড়েছেন।”
মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান বলেন, “টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের ছয়জনের একটি টিম অপহরণ মামলার আসামি বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করার জন্য নিজমাওনা গ্রামে আসেন। তারা শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করেন। তাদের পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর সময় স্বজনরা ভুয়া পুলিশ এবং ডাকাত বলে চিৎকার দেন। চিৎকারে আশপাশের লোকজন পুলিশের গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে ভুয়া পুলিশ এবং ডাকাত বলে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।”
তিনি আরও বলেন, “হামলায় টাঙ্গাইল সদর থানা ও শ্রীপুর থানার সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অপহরণ মামলার দুই আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। আহত পুলিশদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।”
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় জড়িত দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
/এএম/এবিএম/



