প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিতে চান মোহন রায়হান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ পক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার নিতে চান। তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না; বরং তা কোনও অসচ্ছল কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মোহন রায়হান জানান, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের মতবিনিময় হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও দুই দফা আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, আমাদের একটাই চাওয়া, কলমের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা। ভালো কাজে উৎসাহ ও ভুল হলে সমালোচনার সুযোগ থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মোহন রায়হান জানান, পুরস্কারের অর্থ তিনি নিজে গ্রহণ করবেন না। তা সামর্থ্যহীন সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সহায়তায় ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নীতিমালা সংস্কারের দাবি
কবি মোহন রায়হান বলেন, পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করা জরুরি। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ, বিশেষজ্ঞনির্ভর ও সর্বজনগ্রাহ্য হওয়া উচিত, যেন ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক বা স্থগিতাদেশের পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
উদাহরণ টেনে মোহন রায়হান বলেন, প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমানকে ঘিরেও এক সময় স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে গণভবনে ডেকে সম্মান জানান। সেই উদারতার দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জানান কবি মোহন রায়হান।
তিনি অনুরোধ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই যেন তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন করলেও প্রক্রিয়াটি মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
মোহন রায়হান বলেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবু বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে প্রজ্ঞা এবং অপমানের চেয়ে মর্যাদাকেই তিনি প্রাধান্য দিতে চান।



