বাংলাদেশের গোলকিপারের সামনে বড় পরীক্ষা?

বিশ্ব নারী ফুটবলে অন্যতম সেরা দল চীন। ফিফা র্যাংকিংয়ে তারা আছে ১৭তম স্থানে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অবিসংবাদিত শক্তি— ৯বার জিতেছে শিরোপা। সেই দলের বিপক্ষেই ১ মার্চ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শক্তির ব্যবধান যে ব্যাপক, তা বলাই বাহুল্য। র্যাংকিংয়ে মনিকা-রুপনারা আছেন ১১২ নম্বরে। বাস্তবতা হলো, ম্যাচে কী হতে পারে তা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেন। তবে তাই বলে লাল-সবুজ দলে লড়াকু মানসিকতার কমতি নেই।
বিশেষ করে চীনের বিপক্ষে তেকাঠির নিচে থাকা নম্বর ওয়ান গোলকিপার রুপনা চাকমাকে দিতে হতে পারে বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় যেন উতরে যেতে পারেন, সেভাবেই প্রস্তুত করছেন গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল। রবিবার জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে সতর্ক কণ্ঠে উজ্জ্বল বলেছেন,
‘টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিক্যালি যেসব সমস্যার মুখোমুখি হই, সেগুলোর ওপরই জোর দিচ্ছি। ওরা যদি বেসিক বিষয়গুলো ঠিক রাখে, তাহলে মিস করার সুযোগ কম। সারা বছর আমরা যে বিষয়গুলো শিখেছি, সেগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে ভুলভ্রান্তি কম হবে। আর ভুল কম হলে গোল হজমের সম্ভাবনাও কমে আসবে। খেলোয়াড়রা মোটিভেটেড।’
গ্রুপ পর্বে আগে থেকেই চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে কাজ করছে দল। ম্যাচভিত্তিক দায়িত্বও বুঝিয়ে দিচ্ছেন কোচরা। উজ্জ্বল বলেছেন,
‘প্রতিনিয়ত আমরা ম্যাচ দেখছি। ওদের শক্তির জায়গা ও আমাদের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করছি। আজকের ট্রেনিং সেশনেও প্রত্যেকটি জোনে, প্রত্যেকটি জায়গায় ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের দায়িত্ব ও ভূমিকা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমরা যদি সবকিছু মেইনটেইন করতে পারি, তাহলে ভুলের সম্ভাবনা কম থাকবে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।’
চীন বা উত্তর কোরিয়া স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচে আক্রমণাত্মক থাকবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলকে বাড়তি রক্ষণ সামলাতে হতে পারে। ঝড়টা অনেক সময় গোলকিপারদের ওপর দিয়েই যায়। ডিফেন্ডাররা হয়তো ডিপ ডিফেন্ডিং করবে। লং রেঞ্জ শটের চ্যালেঞ্জও থাকবে। এ প্রসঙ্গে উজ্জ্বল বললেন, ‘লং রেঞ্জের প্র্যাকটিস অনেক আগে থেকেই করছি। গ্রুপিং হওয়ার পর থেকেই দেখছি, ওরা কীভাবে অন-টার্গেট শুটিং করে, কোন অ্যাঙ্গেল থেকে কীভাবে ফিনিশিং টাচ দেয়। সেগুলো নিয়ে কাজ হয়েছে। লং রেঞ্জে গোলকিপাররা খুব একটা ভুগবে বলে মনে হয় না, ইনশাআল্লাহ। সেটপিস নিয়েও কাজ করছি।’
গ্রুপে শক্তিশালী দল থাকলেও ভয় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। অনুশীলনে আত্মবিশ্বাসী দলই দেখেছেন উজ্জ্বল, ‘আমাদের মেয়েগুলোকে অনুমান করা খুবই কঠিন। আপনারা ভাবতেও পারবেন না, ওরা কার সঙ্গে কী করে ফেলতে পারে। ট্রেনিং সেশনগুলোতে ওরা খুব পজিটিভ। ভয় কাজ করছে—এমন কিছু দেখিনি। বরং তারা আরও মোটিভেটেড। এই স্টেজে এসেছি, এখন প্রমাণের সময়। এখানে ভালো কিছু করতে পারলে বিশ্বের অনেক জায়গায় দরজা খুলে যাবে। তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছে। চাপ হিসেবে দেখছে না। যা আমাদের জন্য আশার জায়গা তৈরি করছে।’



