Uncategorized

‘বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য গ্যালারিতে গলা ফাটাবো’

লাকেম্বা, মিন্টো ও অ্যাংগেলবার্ন- সিডনির কিংসফোর্ড স্মিথ বিমানবন্দর থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক পেরিয়ে আসতে গিয়ে এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের বিলবোর্ড বা লোগো সেভাবে চোখে পড়লো না। তাই বলে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে উত্তেজনার ঘাটতি আছে—এ কথা বলা যাবে না। টুর্নামেন্টের ম্যাচ হচ্ছে সিডনির পাশাপাশি গোল্ড কোস্ট ও পার্থে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পার্থে, স্বাগতিক দলের খেলাও সেখানে। ফলে সিডনির মূল ভেন্যু ছাড়া অন্য এলাকায় এশিয়ার এই বড় আসরের প্রচার কম চোখে পড়েছে। তবে সিডনিতে যেসব দেশের ম্যাচ হচ্ছে, সেসব দেশের সমর্থকদের মধ্যে টুর্নামেন্ট ঘিরে উন্মাদনার কমতি নেই।

সিডনির লাকেম্বা, মিন্টো ও অ্যাংগেলবার্ন এলাকায় মূলত বাংলাদেশিদের বসবাস বেশি। লাকেম্বায় রমজানকে সামনে রেখে এখন খাবারের মেলাও বসেছে। সেখানেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

সিডনিতে থাকা বাংলাদেশিদের অনেকের মধ্যেই ঋতুপর্ণাদের নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে অপেক্ষায় আছেন কমব্যাংক স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শকধারণক্ষমতার মাঠে গিয়ে খেলা দেখার।

লাকেম্বায় থাকেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করা জাহিদ হাসান। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। তিনি বলছিলেন,
‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর এবারই প্রথম বাংলাদেশ ফুটবল দল খেলতে এসেছে। এটা শুনে আমরা যারা বাঙালি আছি, তাদের মধ্যে অন্যরকম উন্মাদনা কাজ করছে। দেশে থাকতে নারী ফুটবলারদের সাফল্য দেখেছি। আর মেয়েরা এশিয়ান পর্যায়ে খেলছে, এটা বড় ব্যাপার। তাই ৩ মার্চ ম্যাচ দেখতে যাবো। আমি পূর্বতন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হলে (বর্তমানে ১০ নম্বর ছাত্র হল) ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলাম। তাই ফুটবলের প্রতি আলাদা টান আছে। আশা করছি দল ভালো করবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী সজীব ভূঁইয়া ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি দেখতে যাবেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি রোমাঞ্চিত।
তার ভাষ্য, ‘আমি বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়ার ম্যাচ দেখবো। ৩৫ ডলার দিয়ে টিকিট কিনেছি। বাংলাদেশ নারী দল এই পর্যায়ে খেলছে, লাল-সবুজের পতাকা বহন করছে—এটা আমাদের জন্য গর্বের। জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়। সাহস নিয়ে খেলুক, ভালো ফল আনুক—এটাই প্রত্যাশা।’

২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন তালাত মাহমুদ। পড়াশোনা শেষে বর্তমানে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। মিন্টোতে পরিবার নিয়ে থাকেন। ৬০-৭০ বন্ধুকে নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা তার। এখানে ম্যাচের টিকিট কিনলে যাতায়াতও সহজ—বাস বা ট্রেনে আলাদা টিকিট লাগে না।

তালাত বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য গ্যালারিতে গলা ফাটাবো। সিডনিতে ৩ ও ৬ মার্চ দুটি ম্যাচই দেখবো। ইতোমধ্যে টিকিট কিনে ফেলেছি।’ 
প্রবাসে অনেক দিন পর বাংলাদেশ জাতীয় কোনও দলের খেলা সরাসরি দেখবেন—ভাবতেই রোমাঞ্চিত তিনি।  নারায়ণগঞ্জ থেকে সিডনিতে থিতু হওয়া তালাত আরও বললেন, ‘আমি এমনিতেই খেলাধুলার ভক্ত। সিডনিতে সুযোগ পেলে খেলা দেখতে যাই। এখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা হলে নিয়মিত মাঠে গিয়ে দেখি। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও দেখেছি। ফুটবল দলের খেলা এবারই প্রথম দেখবো। আমরা বন্ধু-বান্ধব মিলে মাঠে যাবো। টিকিট কেনা হয়েছে। ট্রেনে করে হইচই করতে যেতে চাই। ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি গ্রুপ আছে। দুটি ম্যাচই দেখবো। বুঝতেই পারছেন, আমাদের মধ্যে উন্মাদনা কতটা কাজ করছে।’

লালবাগ থেকে সিডনিতে থিতু হওয়া ফারহানা আক্তারও উচ্ছ্বসিত। একটি সুপারশপে চাকরি করছেন, পাশাপাশি পারিবারিকভাবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। নারী দলের খেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে মেয়েদের খেলা হতে যাচ্ছে। আমরা চাই দল ভালো খেলুক। আমাদের অনেকেই খেলা দেখতে যাবেন। আশা করছি মেয়েরা সাফল্য পাবে।’

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button