মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের সময় দুয়োধ্বনি, গার্দিওলার নিন্দা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মুসলিম ফুটবলারদের রোজা ভাঙার সুযোগ করে দিতে খেলা চলার সময় বিরতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। গতকাল ম্যানচেস্টার সিটি-লিডস ম্যাচেও সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু ফুটবলারদের রোজা ভাঙার জন্য বিরতি দেওয়ায় তখন দুয়োধ্বনি দেওয়ার মতো কাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই ম্যাচের পর ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন, সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। তিনি দর্শকদের‘আরও সম্মান’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবারের ম্যাচে প্রথমার্ধে সূর্যাস্তের সময় হওয়ায় সিটির মুসলিম ফুটবলারদের রোজা ভাঙার সুযোগ দিতে রেফারি অল্প সময়ের জন্য খেলা থামান। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে, যখন পশ্চিম ইয়র্কশায়ারে সূর্য অস্ত যায়, ঠিক সেই সময়েই খেলা সাময়িক স্থগিত করা হয়। তখন গ্যালারির একাংশ থেকে দুয়ো শোনা যায়।
সিটির হয়ে ওমর মারমুশ, রায়ান আইত-নুরি ও রায়ান শেরকি মাঠে দাঁড়িয়েই রোজা ভাঙতে পানীয় গ্রহণ করেন। বেঞ্চে থাকা আরেক মুসলিম ফুটবলার আবদুকোদির খুসানোভও তাদের সঙ্গে রোজা ভাঙেন।
দুয়ো কাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেছেন, ‘এটাই আধুনিক বিশ্ব, তাই না? আজও দেখুন পৃথিবীতে কী হচ্ছে। ধর্মকে সম্মান করতে হবে, বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে হবে—এটাই মূল কথা। প্রিমিয়ার লিগ আগেই বলেছে, রোজা ভাঙার জন্য এক-দুই মিনিট সময় নেওয়া যাবে। খেলোয়াড়রা তাই করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এই ঘটনাটা (দুয়ো) ঘটেছে।’
এ ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী সংগঠন কিকআউট এক বিবৃতিতে জানায়, রমজানে রোজা ভাঙার জন্য খেলা থামানো কয়েক বছর ধরে স্বীকৃত একটি প্রোটোকলের এর অংশ। তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, ‘আজ সন্ধ্যায় এল্যান্ড রোডে ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়রা রোজা ভাঙার সময় লিডস ইউনাইটেডের কিছু সমর্থকের দুয়ো দেওয়া ভীষণ হতাশাজনক ঘটনা।’
তারা আরও জানায়, স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বার্তাও দেখানো হয়েছিল।



