Uncategorized

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার সক্ষমতা কতটুকু ইরানের?

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার তুরস্ক সীমান্তবর্তী পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়। এই হামলার মূল লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করা। ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তেহরান।

হামলায় এরই মধ্যে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। দক্ষিণ ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলি বোমাবর্ষণে অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার সংকট’ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানও বসে নেই। তারা ইসরায়েল অভিমুখে প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে পুরো ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। এছাড়া কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও আঘাত হেনেছে তেহরান।

দ্রুত পাল্টা জবাব দিলেও বিশ্লেষকরা ইরানের দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় একতৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছিল। আঙ্কারাভিত্তিক গবেষক ওরাল তোয়াল মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ২ হাজার ৫০০ থেকে কমে ১ হাজার ৫০০তে নেমে এসেছিল।

তবে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রাইজা জানিয়েছেন, গত এক বছরে ইরান দ্রুত তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বাড়িয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে প্রায় ২ হাজার ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের তথাকথিত প্রতিরোধের অক্ষ বর্তমানে বেশ দুর্বল। বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ গত এক বছরে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়েছে। তবে ইয়েমেনের হুথিরা এখনও ইরানের সবচেয়ে সক্রিয় প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এই পথ বন্ধ রাখা ইরানের জন্য কঠিন হবে। কারণ এতে তাদের প্রধান তেল ক্রেতা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে এবং মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের নৌসম্পদ ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরান গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে দেশজুড়ে চলা গণবিক্ষোভ সরকারের অভ্যন্তরীণ সংহতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক ও সামাজিক সক্ষমতা ইরানের আছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button